ডোমেইন খুঁজা ও রেজিস্ট্রেশান (৪র্থ পর্ব)

সবাইকে স্বাগতম নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর রিয়েল লাইফ প্রজেক্টে। আগের তিনটি পর্ব যারা এখনো পড়েননি তারা দেরি না করে এখানি পড়ে নিন আগের পর্ব গুলো, অন্যথায় ছন্দ পাবেন না।

– নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট)
নিস কিওয়ার্ড রিসার্চ (২য় পর্ব)
কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস (৩য় পর্ব)

ডোমেইন হল একটি ওয়েব সাইটের নাম/ওয়েব এড্রেস, যা দিয়ে মানুষ আপনার সাইটে আসবে বা আপনার সাইটকে খুজে বের করবে। উদাহরন- abc.com; বলে রাখা ভাল- অনেকেই ডোমেইন এবং হোস্টিং এক জিনিষ মনে করে। ডোমেইন শুধুই ওয়েব সাইটের নাম, আর হোস্টিং হল সেই ওয়েব সাইটের তথ্য রাখার স্থান।

ডোমেইন একটি ইউনিক বিষয়, একি নামে দুইজন বা তার বেশি মানুষ থাকতে পারে। কিন্তু একি নামের ডোমেইনে একাধিক ওয়েব সাইট থাকতে পারে না। তাই ভাল ডোমেইন খালি পাওয়া বেস কষ্ট সাধ্য, অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ি ভাল ডোমেইন খালি পাওয়া যায় না।

domain-name-extensions

পৃথিবীতে অনেক রকমের ডোমেইন (ডোমেইন এক্সটেনশান) পাওয়া যায়। ডোমেইনকে তার এক্সটেনশান (.com; .net; .org; .gov; .edu etc.) দিয়ে ঐ ডোমেইনের আওতায় যে সাইট আছে তার প্রকৃতি বুঝা যায়। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ডোমেইনের এক্সটেনশান তৈরী হচ্ছে। এক এক এক্সটেনশনের ডমিনের দাম এক এক রকম। আমরা সাধারনত ডট কম (.com) ডোমেইন নিয়ে কাজ করে থাকি। ক্ষেত্র বিশেষে ডট নেট (.net) ও ডট ওআরজি (.org) নিয়েও কাজ করি।

আমাদের অ্যাফিলিয়েশনের জন্য আমরা মূলত .com, .net বা .org এই ৩টি এক্সটেনশানের যেকোন একটি এক্সটেনশানের ডোমেইন নিয়ে কাজ করব। আর এই ৩টি এক্সটেনশানের ডোমেইনের দাম সাধারনত ১০ থেকে ১৫ ডলারের হয়ে থাকে (৮০০ থেকে ১২০০ টাকা)।

বলে রাখা ভাল, ডোমেইন এবং হোস্টিং সাধারনত ১ বছরের জন্য নেওয়া হয়। বছর শেষে পুনরায় আপনাকে সেই ডোমেইন এবং হোস্টিং রিনিউ করতে হবে।

ডোমেইন নির্বাচনে বিবেচ্চ বিষয়:

১। সহজেই মনেরাখা/লিখা যায় এমন: ডোমেইন নির্বাচনে এমন ডোমেইন বাছাই করা উচিৎ যা কিনা একবার দেখলেই মনে রাখা যায়। ডোমেইনে বিদঘুটে এমন কিছু দেওয়া যাবে না যা কিনা উচ্চারন করতে মানুষের দাঁত ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম হয়। সহজ-সরল নাম নেওয়াটাই শ্রেয়।

২। অবাঞ্চিত কেরেক্টার না ব্যাবহার করা: ডোমেইনে এমন কোন ক্যারেক্টার দেওয়া উচিৎ না, যাকিনা ব্রাউজারে ডোমেইন টাইপ করার সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। উদাহরন: আপনি যদি কাউকে বলেন প্রথমআলো ডটকমে ভিজিট করতে, সে যদি প্রথমআলো ডটকম সম্পর্কে পূর্র্বে কোন ধারনা না রাখে, তাহলে সে অবশ্যই ব্রাউজারে prothomalo.com টাইপ করবে। আর সে চলে যাবে অন্য কোন আন-অথরাইজড ওয়েব সাইটে। কারন আপনি/আমি যখন তাকে বলেছি তখন তাকে “প্রথম ড্যাস(-) আলো” বলেন নি, আর তাই সে ভুল ওয়েব সাইটে চলে গেছে। সুতরাং ডোমেইনে অপ্রয়োজনীয় (-), সংখ্যা (24 বা 360) না ব্যবহার করাই ভাল।

৩। ভুল বানান পরিহার করা: অনেকেই ডোমেইনের বানানে ইচ্ছে করে বা অনিচ্ছাকৃত ভুল করে। যার দরুন সেই ডোমেইনের ব্রেন্ড ভ্যালু সঠিক বানানের ডোমেইনে অটমেটিক চলে যায়। উদাহরন: cellbazaar.com এখানে cell বানান ভুল থাকায় sellbazaar.com এ চলে যাচ্ছে। কারন কেউ সেলবাজারকে পরিচয় করিয়ে দিলে সে বলে দিবে না যে সেল বানানটা সি(C) দিয়ে। সুতরাং ডমিনে বানানের প্রতি নজর দিন।

৪। বেশি শব্দ পরিহার করা: ডোমেইনে যত কম শব্দ ব্যবহার করা যায় ততই ভাল। বেশি বর্ণ বা শব্দ না ব্যবহার করাই উত্তম। অল্প বর্ন বা শব্দ যা কিনা বলতে ও শুনতে শ্রুতি মধুর হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন। বড় শব্দের ডোমেইন মানুষের পক্ষে মনে রাখাটা কষ্টকর। তাই শ্রুতি মধুর ছোট নাম দেওয়াটাই উত্তম।

৫। সম্ভব হলে ডট কম (.com) ডোমেইন নেওয়া: যেকোন সাইট বানানোর ক্ষেত্রে বিশেষ করে ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েশান ক্ষেত্রে ডট কম (.com) ডোমেইনের প্রধান্য দেওয়া উচিৎ। প্রয়োজনে ডোমেইনের নামে কিছু পরিবর্তন করে হলেও নেওয়া উচিৎ। পরিবর্তনটা এক এক নামের ক্ষেত্রে এক এক রকম হতে পারে।

৬। রিদমিক ডোমেইন চয়েজ করা: যেহেতু ভাল ও প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ ডমিন বিক্রি হয়ে গেছে, তাই আপনার ডোমেইন চয়েজ করার ক্ষেত্রে রিদমিক ব্যাপারটা মাথায় রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে দুইটি বা তিনটি শব্দ মিলিয়ে রাখতে পারেন। কিছু রিদমিক ডমিনের উধাহরন: lalgolap.com (lal এবং golap), currentworld.com (current এবং world), smartpassiveincome.com (smart, passive এবং income), earntricks.com (earn এবং tricks, devsteam.com (devs এবং team) bigganprojukti.com (biggan এবং projukti) ইত্যাদি

কোথা থেকে ডোমেইন কিনবেন?

যদি আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড, পেপাল কিংবা অন্য কোন পেমেন্ট গেট-ওয়েতে একাউন্ট থাকে তাহলে আমি বলব আপনি ইন্টারনেশনাল কোম্পানি থেকে ডোমেইন কিনুন। নিচে কিছু জনপ্রিয় কোম্পানির নাম দেওয়া হল যারা কিনা অল্প দামে ডোমেইন প্রভাইট করে। এদের কাছ থেকে ডোমেইন কিনতে পারবেন দাম ১০ থেকে ১২ ডলারের ভিতর।

ইন্টারনেশনাল কোম্পানি:

যারা এখনো মাস্টার কার্ড নেন নি বা পান নাই, তারা দেশিয় অনেক কোম্পানি আছে যাদের কাছে বাংলা টাকার বিনিময়ে ডোমেইন কিনতে পারবেন। এদের কাছ থেকে ডোমেইন কিনতে আপনার খরচ হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

দেশীয় কোম্পানি:

ডোমেইন কেনার পূর্বে লক্ষনীয় বিষয় সমূহ:

যেহেতু প্রতিটি ডোমেইন এক বছর অন্তর অন্তর রিনিউ করতে হয়। কেউ যদি রিনিউ না করে তখন নিদৃষ্ট সময় পর ডোমেইনটি অবার বেচার উপযুক্ত হয়ে যায়। তাই ডোমেইন কেনার পূর্বে একটু চেক করে নিন যে ডোমেইন টি আগে কেউ ব্যবহার করেছে কিনা? আর ব্যবহার করলেও সেকি ডোমেইনটিতে কোন স্প্যামিং করেছে কিনা। এখানে স্প্যামিং বলতে বুঝানো হচ্ছে, ডোমেইনটি কোন মিস ইউজ করা। যেমন: আগের ব্যবহারকারি সেখানে কোন হ্যেকিং, ক্রেকিং, এডাল্ট, ড্রাগ, বা অস্র। এক কথায় সাইটে অবৈধ কোন কনটেন্ট রেখেছিল কিনা সেটা চেক করা জরুরি। কারন যদি কোন সাইটে স্প্যামিং হয়ে থাকে সেই সাইট সাধারনত google থেকে সেই ডোমেইনটি penalised করা হয়ে থাকে। আর যদি কোন ডোমেইন Google Penalised করে সেটা রিকোভার করা অনেক কঠিন কাজ। তাই ডোমেইন কেনার আগে চেক করে দেখে নিন সেটি penalised কিনা। যদি ডোমেইনের পূর্বের ভার্সনে স্প্যামিং/অবৈধ কিছু পান তাহলে সেই ডোমেইন পাল্টে নতুন ডোমেইন কিনুন।

পুরাতন ডোমেইন চেক করার নিয়ম: প্রধমেই গুগলে সার্চ করুন “site:domain.com” দেখুন কোন রেজাল্ট দেখায় কিনা। যদি ডোমেইনটির পূর্বের ভার্সন গুগলে ইনডেক্স থাকে তাহলে সার্চ বারের নিচেই দেখাবে কয়টা রেজাল্ট আছে সাইটের। যদি রেজাল্ট বারে শূণ্য(০) থাকে তাহলে বুঝবেন ডোমেইনটির কোন তথ্য গুগলে নেই। তাহলে সেটিকে মুটামুটি সেফ বলা যায়। আর যদি দেখেন রেজাল্ট অনেক গুলো দেখাচ্ছে তাহলে বুঝবেন যে ডোমেইনটি আগে কেউ ব্যবহার করেছিল। যদি বুঝেন ডোমেইনটি পূর্বে ব্যবহৃত তাহলে দেখে নিন আগে মালিক কি কাজে ডোমেইনটি ব্যবহার করেছে। যদি ডোমেইনের পূর্বের ভার্সনে স্প্যামিং/অবৈধ কিছু পান তাহলে সেই ডোমেইন পাল্টে নতুন ডোমেইন কিনুন।

Google-Search

স্প্যামি ডোমেইন চেক করার নিয়ম:

এই পদ্ধতিতে জানবো আগের ডোমেইনে কি কনটেন্ট পাবলিস্ট করা হয়েছিল। এজন্য আমাদের যেতে হবে archive.org সাইটে। যেখানে আপনি আপনার ডোমেইন দিয়ে BROWSE HISTORY বাটনে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত একটা টাইম কেলেন্ডার।

archive.org

যদি ডোমেইনটি আগে ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাহলে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের ভিতর কোন না কোন সালের অংশে কালো দাগ দেখাবে। যদি কালো দাগ না থাকে তাহলে নিশ্চিত হবেন ডোমেইনটি একদম ফ্রেস। আর যদি কালো দাগ দেখতে পান তাহলে সেই দাগে ক্লিক করুন।

archive.org

ক্লিক করার পর নিচে দেখবেন একটা মাসিক ভিক্তিক কেলেন্ডার চলে এসেছে। সেখানে কিছু মাসের কিছু কিছু তারিখ হালকা নিল রং এর হয়ে আছে। সেই তারিখ গুলোতে ক্লিক করলেই দেখতে পারবেন ঐ বছরের ঐ তারিখে সাইটটি দেখতে কেমন ছিল। সেখানে কি কি কনটেন্ট ছিল। আর সেই কনটেন্ট গুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন ডোমেইনটির পূর্বের ভার্সন কি ভাল ছিল না খারাপ ছিল।

archive.org

ভাল ডোমেইন খুঁজার কিছু টিপ্স:

এখানে আমি আপনাদের দুইটি সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব, যা কিনা আপনাকে ভাল ডোমেইন খুঁজতে সাহায্য করবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক-

  • impossibility.org: এই সাইটটির মাধ্যমে আপনি আপনার মেইন কিওয়ার্ডের সাথে যদিন কোন adjectives, verbs, nouns কিংবা সংখ্যা যুক্ত করে ডোমেইন খুঁজতে চান তাহলে এটি আপনাকে অনেক সহজেই সেই কাজটি করে দিবে।
  • domaintools.com/buy/domain-suggestions: এই সাইটিতে আপনি আপনার মেইন কিওয়ার্ড বা নিস দিয়ে সাজেশান চাইলে অনেক ভাল ভাল নাম সাজেস্ট করে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এই সাইটটি অনেক বেশি ব্যবহার করেছি।

কনটেন্ট অনুপ্রেরণা:
smartpassiveincome.com
searchenginejournal.com

কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস (৩য় পর্ব)

সবাইকে স্বাগতম কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস পর্বে। আগের দুটি পর্ব যারা এখনো পড়েন নি তারা এখানি পড়ে নিন, অন্যথায় ছন্দ পাবেন না।

নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট)
নিস কিওয়ার্ড রিসার্চ (২য় পর্ব)

keyword research

প্রথমেই বলে রাখা ভাল,  কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস একটি জটিল প্রক্রিয়া। পুরো অ্যানালাইসিস প্রক্রিয়াটি জানতে হলে আপনাকে এসইও-র প্রায় প্রতিটা ফেক্টরের কোর লেভেল (সর্বোচ্চ পর্যায়) পর্যন্ত জানতে হবে। যেমন-

  • পেজ রেংক কি? কিভাবে নির্ধারন হয়?
  • ডোমিন এইজ (Age) কি? EMD কি?
  • ডোমিন অথরিটি কি? ডোমিন অথ্রিটি ও পেজ/পোস্ট অথরিটির পার্থক্য কি?
  • টাইটেল ও ডেস্ক্রিপশন ট্যাগ কি? এই ট্যাগ কিভাবে এসইও তে প্রভাব ফেলে?
  • ব্যাক লিংক কি? ব্যাক লিং কিভাবে পাওয়া যায়? Do-follow, No-follow ব্যাংক লিংঙ্ক কি?
  • ইন্টারনাল লিংক, এক্সস্টার্নাল লিংঙ্ক কি? কিভাবে কাজ করে?
  • এলেক্সা রেংক কি? এলেক্সা রেংক কি? এলেক্সা রেংক কিভাবে কাজ করে?

ইত্যাদি অনেক বিষয় আপনাকে জানতে ও শিখতে হবে। আমি ধরে নিব আপনি একজন নতুন মার্কেটার, এই অবস্থায় আমি যদি এই বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করি তাতে অনেকেই ঝামেলা পাকিয়ে ফেলবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সিরিজের এই অংশটা একটা সফটওয়্যারের ব্যবহার করে দেখাব কিভাবে কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস করতে হয়। যাতে আপনারা খুব সহজেই কাজ শুরু করতে পারেন।

তবে বলে রাখা ভাল, আপনি যদি একজন প্রফেশনাল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) সম্পর্কে অনেক ভাল ধারনা রাখতে হবে।

আর যদি আপনি এসইও সম্পর্কে মোটামুটি জানেন তাহলে ম্যেনুয়াল পদ্ধতিতে কিওয়ার্ড অ্যানালাইসিস শিখতে নিচের কিছু সাইটগুলো ফলো করতে পারেন। এই সব সাইট থেকেও আপনি কিওয়ার্ড অ্যানালাইসিস খুব ভাল ভাবে শিখতে পারবেন।

স্টার (*) মার্কের সাইট গুলো হাইলি রিকোমেন্ড করছি।

এছাড়া এসইও শিখার জন্য নিম্নের সাইট গুলো ফলো করতে পারেন-

এসইওর নতুন নতুন বিষয় গুলো জানতে নিচের ব্লগ গুলো পড়তে পারেন। বলে রাখা ভাল, এসইও একটি চলমান প্রকৃয়া, তাই নিত্য নতুন এসইও-র সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হয়।

তো শুরু করা যাক কিওয়ার্ড অ্যানালাইসিস; আমরা এই অংশে যে টুলটি ব্যবহার করব তার নাম Keyword Revealer. এই টুলটি চাইলে আপনারা ফ্রিতে অথবা কিনে ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রিতে আপনি দৈনিক ৩ বার কিওয়ার্ড রিসার্চ ও ৭ টি কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন চেক করতে পারবেন। মাসিক ৯.৯৭ ডলারের (প্রায় ৮০০ টাকা) একটা প্যেকেজ আছে, যাতে আপনি দৈনিক ২৫ বার কিওয়ার্ড রিসার্চ ও ৫০ টি কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন চেক করতে পারবেন।

একটি ভাল কিওয়ার্ড পাওয়ার জন্য আমাদেরক অনেক সময় ও পরিশ্রম বিনিয়োগ করতে হয়। সুতরাং প্রথম অবস্থায় কিছু ভাল কিওয়ার্ড পেতে আপনাকে বার বার সার্চ করতে হবে। তাই আমি আপনাদের বলব ১০ ডলারের বিনিময়ে এর পেইড ভার্সনটি কিনে নিন। তাহলে স্মুথলি কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসের কাজ করতে পারবেন।

Keyword Revealer এর প্যেকেজ কিনতে আপনারা পেওনিয়রের মাস্টার কার্ড অথবা নেটেলারের ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার করুন। এই কার্ড দিয়ে শুধু মাত্র Keyword Revealer ই না, অনলাইনে যেকোন কিছু কেনাকাটা করতে পারবেন।

Keyword Revealer দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস

কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস করার যত গুলো সফটওয়্যার বা টুল আছে তার ভিতর অন্যতম হল Keyword Revealer. এছাড়া, বাজারে যত গুলো কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসের টুল বা সফটওয়্যার আছে তার ভিতর সবচেয়ে সস্তা ও শক্তিশালি টুল এটি। এতে রয়েছে অসাধারন কিছু ফিচার, যা দিয়ে আপনি খুব সহজেই কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসের কাজ করতে পারবেন। এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি যে সব তথ্য পাবেন-

  • লোকাল ও গ্লোবাল সার্চ ভলিউম
  • রিলেটেড কিওয়ার্ড আইডিয়া
  • এভারেজ সি.পি.স (কস্ট পার ক্লিক)
  • এডভার্টাইজিং থেকে আনুমানিক আয়।
  • কিওয়ার্ড কম্পিটিশন (Evaluate) চেকিং
  • কিওয়ার্ড রিলেটেড .com, .net এবং .org ডোমিন চেকিং
  • কিওয়ার্ড ট্রেন্ড চেকিং

Keyword Revealer

এছাড়া, কিওয়ার্ডকে ওয়ার্ড নাম্বার অনুযায়ি ফিল্টার করা যাবে, যেমন- আপনি যদি চান শুধু মাত্র ৩ থেক ৭ শব্দের কিওয়ার্ডগুলো আপনাকে সাজেশনে দেখাক সেটাকে আপনি ফিল্টার করে দেখতে পারেন।

এমনকি, কিওয়ার্ডকে সার্চ ভলিউম অনুযায়ি ফিল্টার করতে পারবেন অর্থ্যাৎ আপনি চাইলে মিনিমাম ৩০০ (যে কোন এমাউন্ট) এবং মেক্সিমাম ২০,০০০ (যে কোন এমাউন্ট) এর কিওয়ার্ডগুলো আপনাকে সাজেশনে দেখাক সেভাবে ফিল্টার করতে পারবেন। 🙂

এই সফটওয়্যারটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মজার অংশ হল এর Keyword Difficulty চেকার, যার মাধ্যমে আপনি ঐ নিদৃষ্ট কিওয়ার্ডের এসইও কম্পিটিশন দেখতে পারবেন। আর খুব সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে ঐ কিওয়ার্ডে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করাতে পারবেন কি পারবেন না। তো শুরু করা যাক…

ধাপ-১: প্রথমেই keywordrevealer.com সাইটে যান, যাদের সামর্থ আছে তারা এই সফটওয়্যারটি কিনে ব্যবহার করতে পারেন, আর যাদের কেনার সামর্থ্য নেই তারা এর ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। যেহেতু প্রথম অবস্থায় বার বার সার্চ করে দেখতে হবে ভাল কিওয়ার্ড পাবার আশায়, তাই আমি বলব অন্তত্ প্রথম একমাসের জন্য হলেও এদের ৯.৯৭ ডলারের প্যেকেজটি কিনে নিন।

ধাপ-২: Sign Up বাটনে ক্লিক করে আপনার ইনফরমেশন দিয়ে ফর্মটি ফিল-আপ করে Create my account বাটনে ক্লিক করে আপনার রেজিস্ট্রেশানটি কনফার্ম করুন।

ধাপ-৩: রেজিস্ট্রেশানটি শেষে লগ-ইন করুন। এবার উপরের ম্যেনু বারে দেখুন Keyword Tool নামে একটি ম্যেনু আছে। ঐ খানে ক্লিক করুন, দেখুন একটা নতুন পেজ ওপেন হয়েছে। এবার Type keyword to begin … ঘরে আপনি আপনার কাংঙ্খিত নিস বাসান, লোকেশান ঘরে All Locations সিলেক্ট করে Submit বাটনে ক্লিক করুন।

Keyword research

আমার এই সিরিজের জন্য আমি একটি নিসটি সিলেক্ট করেছি, আর তা হল- “Vacuum Cleaner”। এই নিসটি যে কারনে আমি সিলেক্ট করেছি-

  • এটি মূলত উন্নত বিশ্বের (বায়িং কেপাসিটি যাদের বেশি) লোকেরা ব্যবহার করে।
  • দৈনন্দিন কাজে Vacuum Cleaner অপরিহার্য্য যন্ত্র।
  • Vacuum Cleaner এর অল্টারনেটিভ আসলে কিছুই নেই, বরং দিনকে দিন এর ব্যবহার বহুমাত্রিক হচ্ছে।
  • বাজারে বহু প্রকারের Vacuum পাওয়া যায়, যা নিয়ে আমি অনেক বেশি লিখতে পারব।
  • যদিও ব্যাক্তিগত ভাবে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা নেই, তারপরেও যেহেতু এটি একটি সাধারন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মতই তাই সামান্য কিছু পড়া-শুনা
  • করলে এর উপর লেখার দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
  • Vacuum Cleaner ক্রয় করতে মোটা অংঙ্কের টাকা খরচ করতে হবে না। তাই সাধারন মানুষেরও এটি ক্রয় করার ক্ষমতা রাখে।

যেভাবে আমি Keyword Revealer দিয়ে কিওয়ার্ড অ্যানালাইসিস করেছি:

প্রথমে আমি keywordrevealer.com সাইটে লগ-ইন করি। এরপর Type keyword to begin … ঘরে Vacuum Cleaner নিস কিওয়ার্ডটি দিয়ে Submit বাটনে ক্লিক করি, keyword revealer মূহুর্তের ভিতর আমাকে ৬৭৪ টি কিওয়ার্ড সাজেস্ট করে।

যেহেতু শুধু মাত্র Vacuum Cleaner দিয়ে সার্চ করার keyword revealer আমাকে অনেক আজে-বাজে কিওয়ার্ডও রিলেটেড সার্চ হিসাবে আমাকে সাজেস্ট করেছে তাই আমি এই কিওয়ার্ড গুলোকে আমার মতন করে ফিল্টার করে নিব।

ফিল্টারিং (১): Keyword Filter ঘরে আমি Vacuum কথাটা বসাই, যার মানে হল ৬৭৪ টি কিওয়ার্ডের ভিতর যে সব কিওয়ার্ডে Vacuum শব্দটা আছে আমাকে শুধু সেই সব কিওয়ার্ডই সাজেশন লিস্টে দেখাবে। আর বাকি গুলো বাদ হয়ে যাবে। এর ফলে আমার কিওয়ার্ডের সংখ্যা ৬৭৪ থেকে কমে ৬৪৮ এ নেমে আসল। আর তাতে আমি আমার কাংঙ্খিত কিওয়ার্ড গুলো পেয়ে যাই।

ফিল্টারিং (২): Average Monthly Searches এ দুটি ঘর আছে। প্রথম ঘরটির নাম min যার মানে হল Minimum বা সর্বোনিম্ন, দ্বিতীয় ঘরটির নাম max যার মানে হল Maximum বা সর্বোচ্চ। অর্থ্যাৎ Average Monthly Searches এর মাধ্যমে আপনি ঠিক করে দিতে পারবেন আপনি সর্বোনিম্ন কত ভলিউমের কিওয়ার্ড দেখতে চান, আর সর্বোচ্চ কত বেশি কিওয়ার্ডের সাজেশন দেখতে চান।

এখানের min ঘরে আমি ৫০০ দেই আর max ঘরটি খালি রাখি। আর এর মাধ্যমে আমি ফিল্টার করতে চাই আমাকে যেন এমন কিওয়ার্ডকে সাজেস্ট করে যার মাসিক মিনিমাম সার্চ ভলিউম আছে ৫০০।

** বলে রাখা ভাল Average Monthly Searches মানে হল গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে ঐ কিওয়ার্ডটির মান্থলি কত বার সার্চ হয় তার এভারেজ। যেমন- “vacuum cleaner reviews” কিওয়ার্ডটিতে গুগলে মাসে সারা বিশ্ব থেকে কতবার সার্চ হয় তার গড় সংখ্যা। **

ফিল্টারিং (৩): Number Of Words এতেও রয়েছে দুইটি ঘর একটি min অন্যটি max; এখানে Number Of Words ফিল্টারের কাজ হল আপনি সর্বোনিম্ন এবং সবর্োচ্চ কত শ্বব্দের কিওয়ার্ড রিলেটেড সার্চ রেজাল্টে দেখতে চান। আমি এখানে min এর ঘরে ৩ এবং max এর ঘরে ৭ দিয়ে ফিল্টার করি।

কেন আমি মিনিমাম এর ঘরে ৩ দিলাম এবং মেক্সিমাম এর ঘরে ৭ দিলাম? কারন হল- ১ শব্দ ও ২ শব্দের কিওয়ার্ডগুলোর সার্চ ভলিউম ভাল হলেও এদের কম্পিটিশান অনেক বেশি হয়। সাধারনত ১ শব্দ ও ২ শব্দের কিওয়ার্ডগুলোতে Wikipedia, About.com, Business Insider‎, Amazon.com এর মতন বড় বড় ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজে চলে আসে। এর এরা অনেক শক্তিশালি হওয়ায় এদের সাথে কম্পিটিশনে পেরে উঠা প্রায় অসম্ভব। তাই আমি ১ শব্দ ও ২ শব্দের কিওয়ার্ডগুলোকে সব সময় এড়িয়ে চলি।

Keywprd Filter

আর যে দুটো ফিল্টার করার অপশন আছে তা আসলে আমাদের আমাজন অ্যাফিলিয়েশনে খুব একটা কাজে দিবে না। এই ফিল্টার তারাই ব্যবহার করে যারা নাকি গুগল অ্যাডসেন্স এ কাজ করে। তাই এই দুটি ফিল্টার আমরা ব্যবহার করব না।

উপরের ৩টি উপায়ে ফিল্টার করার ফলে আমার কিওয়ার্ড লিস্ট ৬৭৪ থেকে নেমে ১৬০ এ চলে আসছে। এখন এই ১৬০ টি কিওয়ার্ড থেকে আমাকে বাছাই করতে হবে আমার আসল কিওয়ার্ড, যার উপর ভিক্তি করে আমি আমার সাইট ডেভেলপ করব।

পুরো প্রকৃয়াটি ভিডিও টিউটরিয়ালে দেখুন-

ফাইনাল কিওয়ার্ড বাছাই:

ফিল্টারিং করার ফলে এর লিস্ট ছোট হয়ে যাওয়ায় আমার জন্য আসল কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা এখন অনেক সহজ হয়ে যায়। এবার আমি এখানের থেকে ম্যেনুয়ালি এক এক করে বায়িং কিওয়ার্ড গুলোকে বাছাই করি, এবং এসব বায়িং কিওয়ার্ডগুলোর Keyword Difficulty চেক করে দেখি। যে কিওয়ার্ডের Keyword Difficulty রেঞ্জ ৪০ এর নিচে আছে আমি সেই সব কিওয়ার্ডকে সেভ করে নেই। কিওয়ার্ড Keyword Difficulty চেক করার সময় কিওয়ার্ডের ট্রন্ডটাও দেখে নেই কারন যদি কোন কিওয়ার্ডের ট্রেন্ড পূর্বের তুলনায় বর্তমানে অনেক খারাপ থাকে তাহলে আমি সেই কিওয়ার্ড বাদ দিয়ে দেই।

এভাবে এক এক করে Keyword Difficulty চেক করি এবং কম্পিটিশান লেভেল ৪০ এর নিচে থাকলে সেটা সেভ করে ফেলি। এবার আমার সব সেভ করা কিওয়ার্ড লিস্ট দেখতে Saved Keywords ট্যাব যাই এবং সেখান থেকে সবগুলো কিওয়ার্ড ডাউনলোড করে নেই। আর এই ডাউনলোড করা কিওয়ার্ডই হল আমার আসল কিওয়ার্ড যার উপর ভিক্তি করে আমি আমার ব্লগ সাজাব। এই ছিল আজকের পর্বে, নেক্সট পর্বে আমরা আমাদের ব্লগ সেটাপ করার জন্য ডোমিন এবং হোস্টিং বাছাই করে সেটাপ করব।

1 2