গুগল অ্যাডসেন্স ও আমার অনলাইন ক্যারিয়ার!

অনলাইনে কাজ করা শুরু সেই ২০০৮ সালে। ব্লগিং (blogspot.com) ও গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে, আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই (Jahirul Islam Mamun) এর কাছে প্রথম কাজের হাতেখড়ি। ওনি শিখিয়েছেন কিভাবে ব্লগ বানাতে হয়, আর সেটা কিভাবে মনিটাইজ করতে হয়।

প্রথম সফলতা পেতে মুটামুটি ৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এখনো স্পষ্ট মনে আছে সেদিন DHL থেকে ফোন এল, ওপাশ থেকে বলল যে আপনার নামে একটা ডকুমেন্ট এসেছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, যে ওটা আমার অ্যাডসেন্সের ইনকামের চেক। 

গুগল অ্যাডসেন্স

২০১১ সালের জুন মাসে পাওয়া অ্যাডসেন্স এর চেকের স্ক্যান কপি

প্রথম ইনকামটা আমাকে এত বেশি মোটিভেট করল যে, আমার ধ্যানে-জ্ঞানে, জাগনে-নিদ্রায় সব খানে বিচরণ করতে থাকল ব্লগিং ও গুগল অ্যাডসেন্স। যার ফলশ্রুতিতে খুব বেশি দিন লাগেনি আমার আয়ের একটা স্ট্যাবল অবস্থায় যেতে। ২০১০ এর পর থেকেই মুটামোটি ৪ ডিজিট রেভিনিউ আসা শুরু হল।

আমার বন্ধু মহলে, আমার অনলাইন ক্যারিয়ার নিয়ে যারা হাসি তামাশা করত তারাও পরে আমার কাছে এসেছিল কাজ শেখার জন্য। আমি আমার সাধ্য মতন সবাইকে চেষ্টা করেছি ওদের কাছে টেনে নিতে। যার দরুন ২০১০ সালেই আমি একটি টিম গঠন করি ‘অনলাইন সাপোর্ট’ নামে। আমাদের ‘অনলাইন সাপোর্ট’ টিমে মোট ৪ জন মেম্বার ছিল। আমি, সুমন, দিপু, মাসুদুর রহমান (ছোট মাসুদ)।

অনলাইন সাপোর্টের মেম্বার, বাম থেকে সুমন, মাসুদুর রহমান, দিপু, আমি আর মাঝে ভাই জহিরুল ইসলাম মামুন।

২৬ শে ২০১১

তখন আমি ছাত্র, ভোরে আমি প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছি। এ সময় মাসুদুর রহমান (ছোট মাসুদ) আমাকে ফোনে জানায় যে ওর অ্যাডসেন্স একাউন্ট সাসপেন্ড হয়েছে। আমি ওকে নির্ভয় দেই যে, আমি তো আছি চিন্তা করিস না; সব ঠিক হয়ে যাবে, এই বলে ফোন রেখে দেই। ও কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন দেয়, আর বলে যে আমার সাইটেও নাকি অ্যাডসেন্সের অ্যাড দেখাচ্ছে না। কথাটা শুনার পড়ে আমি আর পড়তে যাই নি। 🙁

দ্রুত বাসায় ফিরে দেখি আমার একাউন্টও সাসপেন্ড হয়েছে (প্রায় দেড় লক্ষ্য টাকা সহ)। কি করব কিছু বুঝতে পারছিলাম না। সবকিছু যেন গোলমাল পাকিয়ে যাচ্ছিল। যদিও পরে জানতে পারি ওইদিন শুধু আমাদের না আমার মতন হাজারো অ্যাডসেন্স পাবলিশারের একাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছিল। যার কারণ হিসাবে অনেকেই বলেছিল যে, ঐ সময় গুগল Ads by Google থেকে নতুন লেভেল AdChoices এ আপগ্রেড করে। আর তাদের একাউন্ট সাস্পেন্ডশন টা ছিল একটা বাগ।

যাই হোক একাউন্ট সাসপেন্ড হবার প্রায় ১ মাস পরে আবার নতুন একাউন্ট পাই। আর সেই একাউন্ট এখনো বর্তমান আছে আলহামদুলিল্লাহ্‌। 🙂

এপ্রিল ২০১২

ডেভসটিম লিমিটেডের যাত্রা শুরু, ডেভসটিমের শুরুর দিকে কোম্পানি বড় করা নিয়ে আমরা এত বেশিই ব্যস্ত ছিলাম যে আমারা আমাদের ব্যাক্তিগত সকল কাজ একেবারেই বন্ধ করে দেই। যার দরুন আমার অ্যাডসেন্স এর আয় আস্তে আস্তে কমতে থাকে। ২০১২ শেষের দিকে ইনকাম এটাই কমে যায় যে তখন মাসে ২০০-৩০০ ডলারের বেশী হত না। যদিও এনিয়ে আমার কোন আক্ষেপ ছিল না, কারণ তখন আমরা সবাই ডেভসটিমকে নিয়ে অনেক ব্যাস্ত।

জানুয়ারি ২০১৫

আমার বন্ধু/ব্যবসায়িক পার্টনার নাসির উদ্দিন শামিম (আমার দেখা বাংলাদেশের সেরা ব্লগার) ও তখন আবার ডেভসটিমের পাশাপাশি টুকটাক ব্লগিং শুরু করেছে + মোবাইল অ্যাপ বানাচ্ছে। ওর দেখাদেখি আমারো মোবাইল অ্যাপ বানানো শিখতে ইচ্ছে করল।

আর শামিমের হাত ধরেই এখন আমি টুকটাক মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপ করি। আর সেই অ্যাপ মনিটাইজ করি AdMob দিয়ে (গুগল অ্যাডসেন্সের আর একটি সার্ভিস)। এর পর থেকে আজ অব্দি নতুন নতুন আইডিয়ার অ্যাপ বানাচ্ছি আর সেটা মনিটাইজ করছি AdMob দিয়ে। পাশাপাশি আবার ব্লগিং শুরু করেছি।

২৪ শে অক্টোবর ২০১৭

আজ আমার জন্য একটা বিশেষ দিন, যার জন্য এই ব্লগ পোস্ট!

আজ আমার সেই দ্বিতীয় অ্যাডসেন্স একাউন্টে থেকে মোট আয় ৫০,০০০ ডলার ক্রস করেছে, আলহামদুলিল্লাহ্‌। 🙂 যদিও এই ৫০,০০০ ডলারের সিংহভাগ আয় হয়েছে গত দুই বছরে।

৫০ হাজার ডলার আয়!

আমার এই ১০ বছরের অনলাইন ক্যারিয়ারে সব সময় যারা আমার পশে থেকে অনুপ্ররনা যুগিয়েছেন তাদের কাছে আমি চির ঋণী। আজকের এই দিনে আমি যাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে আবারো স্বরন করতে চাই-

  • আমার বাবা, যিনি আমার এই অনলাইন ক্যারিয়ার বিষয়ে আমাকে দিয়েছেন পূর্ন স্বাধীনতা।
  • আমার মা, যিনি এই জগতটার কিছুই বুঝেন না, কিন্তু সবসময় আমার জন্য দোয়া করেছেন আর বলেছেন আমি যাতে সৎ ভাবে চলি।
  • আমার একমাত্র বড় ভাই, যিনি আমাকে আজ মাসুদ থেকে ব্লগার মাসুদুর রশিদ বানিয়েছেন।
  • আমার বউ নিতু, সারাদিন বাহিরে বাহিরে থেকে আবার রাত জেগে কাজ করি ঠিক মতন তাকে সময় দেয়া হয় না, তারপরো সে কাখনো কাজ করা নিয়ে অভিযোগ করে নি। সবসময় অনুপ্ররনা দিয়েছে। <3
  • শাকিল আরিফিন, আমার ব্লগিং ক্যারিয়ারের প্রথম ওনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ছোট-খাট অনেক বিষয়ে তাকে বিরক্ত করতাম, তবে কখনই তিনি আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন নি, দিয়েছেন অনেক দীক্ষা।
  • নাসির উদ্দিন শামিম, ও পাশে না থাকলে হয়তবা আমি আর নতুন করে ব্লগিং করতাম না। অনেক কিছু শিখেছি ওর কাছ থেকে।
  • ইউনুস হোসেন, এই অনলাইন জীবনে শত খুঁটিনাটি ঝামেলায় সবার আগে পাশে পাই ইউনুসকে। এই ছেলেটার মতন মেধাবী তরুণ দেশে খুব কম আছে।
  • পলাশ, ইমেইল মার্কেটিং ছাড়া ব্লগিং পরিপূর্ণ হয় না। ইমেইল মার্কেটিং এর হাতে খড়ি এই দুষ্টু ছেলে পলাশের হাত ধরে।
  • এছাড়া বন্ধু মহলে সবসময় যারা বিভিন্ন পরামর্শ ও অনুপ্ররনা দিয়েছে তাদের ভিতর সুমন, দিপু, মাসুদুর রহমান, সুজন, বাপ্পিজাকির অন্যতম। তোদের অনুপ্ররনা আমার জীবন পথের পাথেয়।

ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন ও সেটাপ (৫ম পর্ব)

প্রথমেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমার এই ৫ম পর্বটি শেষ করতে আমি অনেক বেশি সময় নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী পর্বগুলো খুব তারাতারি-ই প্রকাশ করার চেষ্টা করব।

যারা আমার পূর্বের পর্বগুলো দেখেন নাই তারা এখান থেকে দেখে নিতে পারেন-

– নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট)
নিস কিওয়ার্ড রিসার্চ (২য় পর্ব)
কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস (৩য় পর্ব)
ডোমেইন খুঁজা ও রেজিস্ট্রেশান (৪র্থ পর্ব)

আমাদের এই ৫ম পর্বে আমরা ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন ও সেটআপ করা নিয়ে আলোচনা করেছি। তো শুরু করা যাক!

ওয়েব হোস্টিং মানে হল ভার্চুয়াল স্পেস (জায়গা) যেখানে আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের লেখা, ছবি, ভিডিও থাকে। অর্থ্যাৎ ওয়েব হোস্টিং হল এমন জায়গা যেখানে আপনি আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের কনটেন্ট রাখবেন। এখানে কনটেন্ট মানে শুধু লেখাই না, সাইটের সকল ছবি, ডকুমেন্ট, ভিডিও, স্কৃপ্ট, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিকেও বুঝানো হয়েছ।

একটা কথা আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই, ডোমেইন এবং ওয়েব হোস্টিং দুইটা দুই জিনিস, কখনই দুটাকে এক ভাববেন না। ডোমেইন শুধু মাত্র নাম, আর হোস্টিং হল ডোমেইনের আওতায় সকল কনটেন্ট রাখার জায়গা।

আমার আগের পোস্টে আমি দেখিয়েছি কিভাবে ডোমেইন নির্বাচন করতে হয়, কোথা থেকে ডোমেইন কিনতে হয়, ডোমেইন নির্বাচনে বিভিন্ন বিষয় ইত্যাদি। আশা করি সবাই ডোমেইনের প্রতিটা বিষয় বুঝেছেন। এবার আমরা আমাদের ডোমেইনের জন্য একটা ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করব।

হোস্টিং সম্পর্কিত সাধারন কিছু কথা

প্রতিটা হোস্টিং এ দুটো বিষয় থাকে: (এক) ওয়েব স্পেস (দুই) বেন্ডউইথ।

১। ওয়েব স্পেস: যেখানে আপনার ওয়েব সাইটের সকল কনটেন্ট, ইমেজ, ডক ফাইল, অডিও, ভিডিও ফাইল রাখা হয় সেই স্থানটাকে ওয়েব স্পেস বা ডিস্ক স্পেস বলে। আমাদের নিস ব্লগের জন্য প্রথম দিকে খুব একটা স্পেস লাগবে না। ১ থেকে ৩ জিবি (গিগা বাইট) স্পেস নিলেই হবে।

২। ব্যান্ডউইথ (Bandwidth): বেন্ডউইথ হল সাইটের ব্যবহারকারিরা (ভিজিটর বা ট্রাফিক) ওয়েবসাইট থেকে মাসে কি পরিমান ডাটা ডাউনলোড বা আপলোড করতে পারবে তার পরিমান। বেন্ডউইথ মাসিক ভিক্তিতে দেওয়া হয়। আমাদের নিস ব্লগের জন্য মাসে ১০-২০ গিবি বেন্ডউইথ নিলেই আপাতত চলবে।

হোস্টিং আবার বিভিন্ন কোয়ালিটির বা ধরনের হয়। যেমন শেয়ার্ড হোস্টিং, ভিপিএস হোস্টিং, ডেডিকেটেড, মেনেজড, আনমেনেজড ইত্যাদি বহু প্রকারের আছে। হোস্টিং নিয়ে জানার অনেক কিছু আছে, (আমি নিজেও হোস্টিং সম্পর্কে খুব একটা ভাল জানি না)। যেহেতু এটা আমাদের নিস ব্লগ প্রজেক্ট সুতরাং আমাদের হোস্টিং সম্পর্কে এত কিছু না জানলেও চলবে।

আমাদের নিস সাইটের জন্য মিনিমাম যে রিকোয়ার্রমেন্টের হোস্টিং লাগবে:

  • শেয়ার্ড হোস্টিং (ভিপিএস হলে ভাল)
  • ওয়েব স্পেস: ১ জিবি
  • বেন্ডউইথ: ১০ জিবি (মান্থলি)
  • cPanel (হোস্টিং মেনেজমেন্ট করার জন্য)
  • ইমেইল একাউন্ট

মোটামুটি এই হল রিকোয়েরমেন্ট, আর এই রিকোয়ারমেন্টের হোস্টিং এর দাম বছরে ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পড়বে।

আপনার যদি বাজেট ভাল থাকে তাহলে 90$-100$ ডলার (৮০০০ টাকা) খরচ করে বিদেশি কোম্পানির শেয়ার্ড হোস্টিং কিতনে পারেন। আর এই সব শেয়ার্ড হোস্টিং আপনি একাধিক নিস সাইট হোস্ট/চালাতে পারবেন।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে প্রথম দিকে দেশিয় কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার করেছিলাম। ভাল সাপোর্ট না পাওয়ায় পরে বিদেশি কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার শুরু করি। বলে রাখা ভাল, ভাল কোম্পানির হোস্টিং না নিলে সারা বছর অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। এমনকি ভাল কোম্পানির হোস্টিং না নিলে সে সাইট দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনেও ভাল স্থান দখল করা সম্ভব নয়।

হোস্টিং নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়

১। কম দামের হোস্টিং এড়িয়ে চলুন: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- “যত গুড় তত মিষ্টি” সুতরাং কম দামের হোস্টিং এ সাপোর্ট কম পাবেন, বেশি দামেরটায় বেশি সাপোর্ট পাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিছুটাকা বাঁচানোর জন্য এমন মানের হোস্টিং নেওয়া উচিত হবে না যেটা আপনাকে সারা বছর ভুগাবে। ফেসবুকের কল্যানে এখন অনেকেরই স্ট্যাটাস পাওয়া যায় ১০ জিবি হোস্টিং মাত্র ৫০০ টাকায়! দয়া করে এদের এড়িয়ে যাবেন।

২। স্পেস ও বেন্ডউইথ দেখে নিন: যার কাছ থেকে হোস্টিং নিচ্ছেন তার তাছ থেকে ভাল ভাবে আপনার সার্ভারের স্পেস ও ব্যান্ডউইথ বুঝে নিন। সি-পেনেলে ঢুকে চেক করে দেখুন আসলেই কি আপনাকে আপনার কথামতন স্পেস ও ব্যান্ডউইথ দিয়েছে কিনা।

৩। কাস্টমার সাপোর্ট: হোস্টিং কেনার আগে সাপোর্টে ফোন, মেইল বা লাইভে চ্যেট করে দেখুন তারা লাইভ সাপোর্ট কেমন দেয়। সাপোর্ট পেতে দেরি হলে বা কোন গড়িমসি করলে তাদের

কোথা থেকে হোস্টিং কিনবেন?

যদি আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড, পেপাল কিংবা অন্য কোন পেমেন্ট গেট-ওয়েতে একাউন্ট থাকে তাহলে আমি বলব আপনি ইন্টারনেশনাল কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনুন। নিচে কিছু জনপ্রিয় কোম্পানির নাম দেওয়া হল যারা কিনা অল্প দামে ভাল হোস্টিং প্রভাইট করে। এদের কাছ থেকে হোস্টিং কিনলে ১ টা টপ লেভেল ডোমেইন ১ বছরের জন্য ফ্রি পাবেন। দাম ৯০ থেকে ১২০ ডলারের ভিতর পড়বে।

ইন্টারনেশনাল কোম্পানি:

  • bluehost.com
  • hostgator.com (২৫% ডিস্কাউন্ট পেতে এই কুপন কোডটি ব্যবহার করুনঃ “RealLifeProject”)
  • webhostinghub.com
  • namecheap.com (এখান থেকে একসাথে ডোমেইন ও হোস্টিং নিতে পারবেন)

যারা এখনো মাস্টার কার্ড নেন নি বা পান নাই, তারা দেশিয় অনেক কোম্পানি আছে যাদের কাছে বাংলা টাকার বিনিময়ে ডোমিন কিনতে পারবেন। এদের কাছ থেকে ডোমিন কিনতে আপনার খরচ হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

দেশীয় কোম্পানি:

  • ExonHost.com (২০% ডিস্কাউন্ট পেতে এই কুপন ব্যবহার করতে পারেন: ExonLove)
  • hostmight.com

ডোমেইন হোস্টিং সেটআপ

ডোমেইন সেটআপ

ডোমেইন কেনার পর ডোমেইন কোম্পানি আপনাকে একটা প্যানেল দিবে (যাকে আমরা ডোমেইন সি-প্যানেল বা ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল বলতে পারি)। ডোমেইন প্যনেল কোম্পানি ভেদে ভিতরের ফাংশন ভিন্ন হয়। তবে মূল বিষয় গুলো কিন্তু সব প্যানেলেই থাকে।

আমরা আজ যে প্যানেল থেকে ডোমেইন সেটআপ দেখাব তার নাম হল internetbs.net। এই প্যানেল দেখতে ঠিক নিচের ছবির মতন। যেখানে আপনার কেনা ডোমেইন নামটি থাকবে।

01

এখানে থেকে আপনি আপনার ডোমেইন সিলেক্ট করুন। ডোমেইন সিলেক্ট করলে আপনি নিচের ছবির মতন একটি পেজ পাবেন।

02

এখানে আপনাকে হোস্টিং কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএস (DNS = Domain name server) নাম্বার বসাতে হবে। অনেকে DNS কে আরো সংক্ষেপে NS (Name Server) নামেও ডাকে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে DNS নাম্বারটা কোথায় পাব??

আপনি যখন হোস্টিং কিনবেন, তখন হোস্টিং কোম্পানিকে আপনার ডোমেইনের নামটা দিয়ে দিতে হবে। হোস্টিং কোম্পানি আপনার কাঙ্ক্ষিত স্পেস ও ব্যান্ডউইথ সহ আপনার জন্য হোস্টিং সেটআপ করে দিবে। এবং সেই হোস্টিং এর সি-প্যানেলের ইনফরমেশান আপনাকে পাঠাবে। ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে যে সব ইনফরমেশান দিবে তার একটা নমুনা চিত্র নিচে দেওয়া হল-

03

চিত্রে আমি হাইলাইট করে দেখিয়েছি NameServer1: ns1.hostglad.com ও NameServer2: ns2.hostglad.com এই NS দুইটা নাম্বার আপনাকে আপনার ডোমেইন প্যানেলে বসাতে হবে। ঠিক নিচের চিত্রের মতন-

04

NS নাম্বার বসিয়ে সেভ করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনি আপনার ডোমেইন ব্রাউজ করলে index of/ cgi-bin/ লেখাটা না আসতাছে। এই লেখাতই পেলেই বুঝবেন যে আপনার ডোমাইনে আর হোস্টিং সেটআপ সম্পন্ন হয়েছে। index of/ পেজটা দেখতে নিচের চিত্রের মতন হবে-

05

index of/ cgi-bin/

বলে রাখা ভাল – কোন কোন ক্ষেত্রে এই সেটআপ সম্পন্ন হতে ১২ ঘণ্টার মতন সময় লাগতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ

ডোমেইন এবং হোস্টিং সেটআপ হয়ে গেলে আমরা এই অংশে ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিব। প্রথমেই বলা যাক ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমান সময়ের বহুল ব্যবহৃত এবং সর্বাধিক জন্যপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্লগিং সফটওয়্যার। এটি মূলত পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরী এবং নিয়ন্ত্রিত একটি সফটওয়্যার। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্লগটি খুব সহজেই ম্যানেজ না নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তো শুরু করা যাক,

প্রথমেই আমাদের হোস্টিং এর সিপ্যানেলে লগইন করতে হবে। সি-প্যানেলে লগইন করার জন্য আমরা আমাদের ডোমেইনের নাম এর শেষে “/” (শ্লেষ) চিহ্ন দিয়ে cpanel লিখব। ঠিক এই রকম http://masudurrashid.com/cpanel, এইটা লিখে ব্রাউজ করলে আপনাকে হোস্টিং এর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিতে বলবে। হোস্টিং কোম্পানি আমাদের যে ডাটা দিয়েছিল সেখানে সি-প্যানেলের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে। নিচের চিত্রে আমি সেটা হাইলাইট করে দেখিয়েছি-

06

এবার সি-প্যানেলে আপনি আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসান। ঠিক চিত্রের মতন।

07

ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসানোর পর লগইন বাটনে ক্লিক করলেই আমরা আমাদের হোস্টিং প্যানেলে প্রবেশ করব। হোস্টং প্যানেলটি দেখতে ঠিক নিচের চিত্রের মতন।

08

এর পরের অংশটি আমি ভিডিও-র মাধ্যমে দেখিয়েছি। আমি দুঃখিত যে ভিডিও-টিতে সাউন্ড কম এসেছে, তাই ভিডিও-টি দেখার সময় হেড ফোন ব্যবহার করুন। ধন্যবাদ।

1 2 3 5