ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন ও সেটাপ (৫ম পর্ব)

প্রথমেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমার এই ৫ম পর্বটি শেষ করতে আমি অনেক বেশি সময় নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী পর্বগুলো খুব তারাতারি-ই প্রকাশ করার চেষ্টা করব।

যারা আমার পূর্বের পর্বগুলো দেখেন নাই তারা এখান থেকে দেখে নিতে পারেন-

– নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট)
নিস কিওয়ার্ড রিসার্চ (২য় পর্ব)
কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস (৩য় পর্ব)
ডোমেইন খুঁজা ও রেজিস্ট্রেশান (৪র্থ পর্ব)

আমাদের এই ৫ম পর্বে আমরা ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন ও সেটআপ করা নিয়ে আলোচনা করেছি। তো শুরু করা যাক!

ওয়েব হোস্টিং মানে হল ভার্চুয়াল স্পেস (জায়গা) যেখানে আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের লেখা, ছবি, ভিডিও থাকে। অর্থ্যাৎ ওয়েব হোস্টিং হল এমন জায়গা যেখানে আপনি আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের কনটেন্ট রাখবেন। এখানে কনটেন্ট মানে শুধু লেখাই না, সাইটের সকল ছবি, ডকুমেন্ট, ভিডিও, স্কৃপ্ট, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিকেও বুঝানো হয়েছ।

একটা কথা আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই, ডোমেইন এবং ওয়েব হোস্টিং দুইটা দুই জিনিস, কখনই দুটাকে এক ভাববেন না। ডোমেইন শুধু মাত্র নাম, আর হোস্টিং হল ডোমেইনের আওতায় সকল কনটেন্ট রাখার জায়গা।

আমার আগের পোস্টে আমি দেখিয়েছি কিভাবে ডোমেইন নির্বাচন করতে হয়, কোথা থেকে ডোমেইন কিনতে হয়, ডোমেইন নির্বাচনে বিভিন্ন বিষয় ইত্যাদি। আশা করি সবাই ডোমেইনের প্রতিটা বিষয় বুঝেছেন। এবার আমরা আমাদের ডোমেইনের জন্য একটা ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করব।

হোস্টিং সম্পর্কিত সাধারন কিছু কথা

প্রতিটা হোস্টিং এ দুটো বিষয় থাকে: (এক) ওয়েব স্পেস (দুই) বেন্ডউইথ।

১। ওয়েব স্পেস: যেখানে আপনার ওয়েব সাইটের সকল কনটেন্ট, ইমেজ, ডক ফাইল, অডিও, ভিডিও ফাইল রাখা হয় সেই স্থানটাকে ওয়েব স্পেস বা ডিস্ক স্পেস বলে। আমাদের নিস ব্লগের জন্য প্রথম দিকে খুব একটা স্পেস লাগবে না। ১ থেকে ৩ জিবি (গিগা বাইট) স্পেস নিলেই হবে।

২। ব্যান্ডউইথ (Bandwidth): বেন্ডউইথ হল সাইটের ব্যবহারকারিরা (ভিজিটর বা ট্রাফিক) ওয়েবসাইট থেকে মাসে কি পরিমান ডাটা ডাউনলোড বা আপলোড করতে পারবে তার পরিমান। বেন্ডউইথ মাসিক ভিক্তিতে দেওয়া হয়। আমাদের নিস ব্লগের জন্য মাসে ১০-২০ গিবি বেন্ডউইথ নিলেই আপাতত চলবে।

হোস্টিং আবার বিভিন্ন কোয়ালিটির বা ধরনের হয়। যেমন শেয়ার্ড হোস্টিং, ভিপিএস হোস্টিং, ডেডিকেটেড, মেনেজড, আনমেনেজড ইত্যাদি বহু প্রকারের আছে। হোস্টিং নিয়ে জানার অনেক কিছু আছে, (আমি নিজেও হোস্টিং সম্পর্কে খুব একটা ভাল জানি না)। যেহেতু এটা আমাদের নিস ব্লগ প্রজেক্ট সুতরাং আমাদের হোস্টিং সম্পর্কে এত কিছু না জানলেও চলবে।

আমাদের নিস সাইটের জন্য মিনিমাম যে রিকোয়ার্রমেন্টের হোস্টিং লাগবে:

  • শেয়ার্ড হোস্টিং (ভিপিএস হলে ভাল)
  • ওয়েব স্পেস: ১ জিবি
  • বেন্ডউইথ: ১০ জিবি (মান্থলি)
  • cPanel (হোস্টিং মেনেজমেন্ট করার জন্য)
  • ইমেইল একাউন্ট

মোটামুটি এই হল রিকোয়েরমেন্ট, আর এই রিকোয়ারমেন্টের হোস্টিং এর দাম বছরে ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পড়বে।

আপনার যদি বাজেট ভাল থাকে তাহলে 90$-100$ ডলার (৮০০০ টাকা) খরচ করে বিদেশি কোম্পানির শেয়ার্ড হোস্টিং কিতনে পারেন। আর এই সব শেয়ার্ড হোস্টিং আপনি একাধিক নিস সাইট হোস্ট/চালাতে পারবেন।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে প্রথম দিকে দেশিয় কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার করেছিলাম। ভাল সাপোর্ট না পাওয়ায় পরে বিদেশি কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার শুরু করি। বলে রাখা ভাল, ভাল কোম্পানির হোস্টিং না নিলে সারা বছর অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। এমনকি ভাল কোম্পানির হোস্টিং না নিলে সে সাইট দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনেও ভাল স্থান দখল করা সম্ভব নয়।

হোস্টিং নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়

১। কম দামের হোস্টিং এড়িয়ে চলুন: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- “যত গুড় তত মিষ্টি” সুতরাং কম দামের হোস্টিং এ সাপোর্ট কম পাবেন, বেশি দামেরটায় বেশি সাপোর্ট পাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিছুটাকা বাঁচানোর জন্য এমন মানের হোস্টিং নেওয়া উচিত হবে না যেটা আপনাকে সারা বছর ভুগাবে। ফেসবুকের কল্যানে এখন অনেকেরই স্ট্যাটাস পাওয়া যায় ১০ জিবি হোস্টিং মাত্র ৫০০ টাকায়! দয়া করে এদের এড়িয়ে যাবেন।

২। স্পেস ও বেন্ডউইথ দেখে নিন: যার কাছ থেকে হোস্টিং নিচ্ছেন তার তাছ থেকে ভাল ভাবে আপনার সার্ভারের স্পেস ও ব্যান্ডউইথ বুঝে নিন। সি-পেনেলে ঢুকে চেক করে দেখুন আসলেই কি আপনাকে আপনার কথামতন স্পেস ও ব্যান্ডউইথ দিয়েছে কিনা।

৩। কাস্টমার সাপোর্ট: হোস্টিং কেনার আগে সাপোর্টে ফোন, মেইল বা লাইভে চ্যেট করে দেখুন তারা লাইভ সাপোর্ট কেমন দেয়। সাপোর্ট পেতে দেরি হলে বা কোন গড়িমসি করলে তাদের

কোথা থেকে হোস্টিং কিনবেন?

যদি আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড, পেপাল কিংবা অন্য কোন পেমেন্ট গেট-ওয়েতে একাউন্ট থাকে তাহলে আমি বলব আপনি ইন্টারনেশনাল কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনুন। নিচে কিছু জনপ্রিয় কোম্পানির নাম দেওয়া হল যারা কিনা অল্প দামে ভাল হোস্টিং প্রভাইট করে। এদের কাছ থেকে হোস্টিং কিনলে ১ টা টপ লেভেল ডোমেইন ১ বছরের জন্য ফ্রি পাবেন। দাম ৯০ থেকে ১২০ ডলারের ভিতর পড়বে।

ইন্টারনেশনাল কোম্পানি:

  • bluehost.com
  • hostgator.com (২৫% ডিস্কাউন্ট পেতে এই কুপন কোডটি ব্যবহার করুনঃ “RealLifeProject”)
  • webhostinghub.com
  • namecheap.com (এখান থেকে একসাথে ডোমেইন ও হোস্টিং নিতে পারবেন)

যারা এখনো মাস্টার কার্ড নেন নি বা পান নাই, তারা দেশিয় অনেক কোম্পানি আছে যাদের কাছে বাংলা টাকার বিনিময়ে ডোমিন কিনতে পারবেন। এদের কাছ থেকে ডোমিন কিনতে আপনার খরচ হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

দেশীয় কোম্পানি:

  • ExonHost.com (২০% ডিস্কাউন্ট পেতে এই কুপন ব্যবহার করতে পারেন: ExonLove)
  • hostmight.com

ডোমেইন হোস্টিং সেটআপ

ডোমেইন সেটআপ

ডোমেইন কেনার পর ডোমেইন কোম্পানি আপনাকে একটা প্যানেল দিবে (যাকে আমরা ডোমেইন সি-প্যানেল বা ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল বলতে পারি)। ডোমেইন প্যনেল কোম্পানি ভেদে ভিতরের ফাংশন ভিন্ন হয়। তবে মূল বিষয় গুলো কিন্তু সব প্যানেলেই থাকে।

আমরা আজ যে প্যানেল থেকে ডোমেইন সেটআপ দেখাব তার নাম হল internetbs.net। এই প্যানেল দেখতে ঠিক নিচের ছবির মতন। যেখানে আপনার কেনা ডোমেইন নামটি থাকবে।

01

এখানে থেকে আপনি আপনার ডোমেইন সিলেক্ট করুন। ডোমেইন সিলেক্ট করলে আপনি নিচের ছবির মতন একটি পেজ পাবেন।

02

এখানে আপনাকে হোস্টিং কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএস (DNS = Domain name server) নাম্বার বসাতে হবে। অনেকে DNS কে আরো সংক্ষেপে NS (Name Server) নামেও ডাকে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে DNS নাম্বারটা কোথায় পাব??

আপনি যখন হোস্টিং কিনবেন, তখন হোস্টিং কোম্পানিকে আপনার ডোমেইনের নামটা দিয়ে দিতে হবে। হোস্টিং কোম্পানি আপনার কাঙ্ক্ষিত স্পেস ও ব্যান্ডউইথ সহ আপনার জন্য হোস্টিং সেটআপ করে দিবে। এবং সেই হোস্টিং এর সি-প্যানেলের ইনফরমেশান আপনাকে পাঠাবে। ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে যে সব ইনফরমেশান দিবে তার একটা নমুনা চিত্র নিচে দেওয়া হল-

03

চিত্রে আমি হাইলাইট করে দেখিয়েছি NameServer1: ns1.hostglad.com ও NameServer2: ns2.hostglad.com এই NS দুইটা নাম্বার আপনাকে আপনার ডোমেইন প্যানেলে বসাতে হবে। ঠিক নিচের চিত্রের মতন-

04

NS নাম্বার বসিয়ে সেভ করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনি আপনার ডোমেইন ব্রাউজ করলে index of/ cgi-bin/ লেখাটা না আসতাছে। এই লেখাতই পেলেই বুঝবেন যে আপনার ডোমাইনে আর হোস্টিং সেটআপ সম্পন্ন হয়েছে। index of/ পেজটা দেখতে নিচের চিত্রের মতন হবে-

05

index of/ cgi-bin/

বলে রাখা ভাল – কোন কোন ক্ষেত্রে এই সেটআপ সম্পন্ন হতে ১২ ঘণ্টার মতন সময় লাগতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ

ডোমেইন এবং হোস্টিং সেটআপ হয়ে গেলে আমরা এই অংশে ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিব। প্রথমেই বলা যাক ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমান সময়ের বহুল ব্যবহৃত এবং সর্বাধিক জন্যপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্লগিং সফটওয়্যার। এটি মূলত পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরী এবং নিয়ন্ত্রিত একটি সফটওয়্যার। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্লগটি খুব সহজেই ম্যানেজ না নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তো শুরু করা যাক,

প্রথমেই আমাদের হোস্টিং এর সিপ্যানেলে লগইন করতে হবে। সি-প্যানেলে লগইন করার জন্য আমরা আমাদের ডোমেইনের নাম এর শেষে “/” (শ্লেষ) চিহ্ন দিয়ে cpanel লিখব। ঠিক এই রকম http://masudurrashid.com/cpanel, এইটা লিখে ব্রাউজ করলে আপনাকে হোস্টিং এর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিতে বলবে। হোস্টিং কোম্পানি আমাদের যে ডাটা দিয়েছিল সেখানে সি-প্যানেলের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে। নিচের চিত্রে আমি সেটা হাইলাইট করে দেখিয়েছি-

06

এবার সি-প্যানেলে আপনি আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসান। ঠিক চিত্রের মতন।

07

ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসানোর পর লগইন বাটনে ক্লিক করলেই আমরা আমাদের হোস্টিং প্যানেলে প্রবেশ করব। হোস্টং প্যানেলটি দেখতে ঠিক নিচের চিত্রের মতন।

08

এর পরের অংশটি আমি ভিডিও-র মাধ্যমে দেখিয়েছি। আমি দুঃখিত যে ভিডিও-টিতে সাউন্ড কম এসেছে, তাই ভিডিও-টি দেখার সময় হেড ফোন ব্যবহার করুন। ধন্যবাদ।

নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট)

অনেকেই আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে, যে কিভাবে একটা নিস সাইট ডেভলপ করতে হয়? কিভাবে অল্প পরিশ্রমে তুলনা মূলক অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়? আমি অনেককেই পার্সনালি আমার নিস সাইট তৈরীর মেথড গুলো শেয়ার করেছি। আমার এই লেখায় আমি একটি লাইভ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করব এবং সেখানে ডিটেলস দেখানোর চেষ্টা করব যে আমি আসলে কিভাবে একটা নিস সাইট তৈরী করি, সেটি কিভাবে সার্চ ইঞ্জিনে রেংঙ্ক করাই এবং সর্বপরি সেটা থেকে কিভাবে মনিটাইজ করি। আমার এই লাইভ প্রজেক্টির নাম আমি ঠিক করেছি “নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং”

আমার এই প্রজেক্টির সার্বিক সহযোগিতায় আছে আমার বন্ধুও ব্যবসায়িক পার্টনার তাহের চৌধুরী সুমন। এছাড়া, বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নাসির উদ্দিন শামিম, আলামিন কবিরইউনুস হোসেন। আমাদের এই প্রজেক্টিতে মূলত আমরা আমাজনের (Amazon.com) প্রডাক্টের অ্যাফিলিয়েশান করব। আগেই বলে রাখা ভাল, এটাই হবে আমার (ব্যক্তিগত) প্রথম আমাজনের প্রডাক্ট রিভিউ নিস সাইট। অনেক আগে থেকেই সফলতার সাথে অ্যাডসেন্স নিস সাইট পাশাপাশি ল্যান্ডিং পেজ করে বিভিন্ন প্রডাক্টের অ্যাফিলিয়েশান করলেও আমাজন রিভিউ সাইট তৈরি করে অ্যাফিলিয়েশান করা হয় নাই। পূর্বের নিস সাইট তৈরির সম্পূর্ন জ্ঞান আর প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাটাই এই প্রজেক্টে ইমপ্লিমেন্ট করবো।

আমি আমার এই লাইভ প্রজেক্টির মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করব, কিভাবে একটি ছোট নিস সাইট থেকে প্রতি মাসে ৪০০+ ডলার (৩২০০০ টাকা) আয় করা যায়

নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং চেক লিস্ট:

Affiliate_marketing

১। কিওয়ার্ড রিসার্চ:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর নিস সাইট করার জন্য অবশ্যই প্রডাক্ট বেজড প্রফিটেবল কিওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে সাথে এটাও মাথায় রাখতে হবে যাতে সেই কিওয়ার্ডটি এসইও কম্পিটিশান তুলনামুলক কম হয়। আমি যেই মেথডে কিওয়ার্ড খুঁজি তা আমার কিওআর্ড রিসার্চ সেকশনে ডিটেইলস দেওয়া আছে। কিওয়ার্ড রিসার্চ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন….

২। কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস:

কিওয়ার্ড খুজে বের করার পর পরবর্তি স্ট্যেপ হল সেই কিওয়ার্ডের কম্পিটইশান কেমন তা যাচাই বাছাই করা। লো কম্পিটিশানের কিওয়ার্ড হলে আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব আর যদি সেই কিওয়ার্ডটির কম্পিটিশান হাই হয় তাহলে সেটা আমরা এড়িয়ে যাব। কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস করার সব গুলো মেথড জানব এই অংশে।

৩। ডোমেইন নির্বাচন:

একটি আদর্শ নিস সাইট তৈরী করতে আপনাকে অবশ্যই ভাল মানের ডোমেইন কিনতে হবে। কোথা থেকে আমরা ডোমেইন কিনব, কি কি ফেক্টর চিন্তা করে আমরা ডোমেইন বাছাই করব তা আমরা ডোমেইন নির্বাচন সেকশানে বিস্তারিত জানব।

৪। ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন:

ডোমেইন কেনার পর সেটা সেটাপ করার জন্য আপনাকে একটা ওয়েব হোস্টিং কিনতে হবে। একটি ভাল মানের হোস্টিং আপনার সাইটের রেংকিং এ পজিটিভ প্রভাব ফেলবে। ওয়েব হোস্টিং সেকশানে আমরা কোন হোস্টিং নেব, কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে হোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে তা আমরা বিস্তারিত জানব।

৫। ব্লগ সেটাপ (ওয়ার্ডপ্রেস):

ডমিন হোস্টিং নেওয়ার পর আমরা সেখানে ব্লগ বানানোর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ দিব। এবং অ্যাফিলিয়েট করার জন্য বেস কিছু প্লাগিং ব্যবহার করব। ব্লগ সেটাপ সেকশানে আমরা কিভাবে একটা অ্যাফিলিয়েট ফ্রন্ডলি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট বানানো যায় তা শিখব।

৬। ব্লগ রাইটিং:

ব্লগটি সম্পূর্ন সেটাপ হয়ে গেলে কিভাবে সেখানে কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে, কত ওয়ার্ডের কনটেন্ট পাবলিস করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত প্লান আমরা কনটেন্ট রাইটিং বা ব্লগ রাইটিং সেকশানে বিস্তারিত জানব।

৭। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান:

অ্যাফিলিয়েট নিস ব্লগটিং সার্চইঞ্জিনে রেংকিং এ আনার জন্য এতে সু-পরিকল্পিত এসইও প্লান করতে হবে। যেখানে আমরা খুব সতর্কতার সহিত অন-পেজ ও অফ-পেজ এসইওর কাজ গুলো চেকলিস্ট আকারে করব। এই সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা থাকবে আমাদের এসইও সেকশানে।

৮। মনিটাইজেশান:

এই পার্টে আমরা শিখব কিভাবে ব্লগ কনটেন্টে অ্যাফিলিয়েট লিংক বসাতে হয়। অ্যাফিলিয়েট লিংক-কে কিভাবে মাস্কিং করা যায়। অর্থ্যাত সাইটকে কিভাবে মনিটাইজ করতে হবে তার বিস্তারিত জানতে পারব আমরা এই পার্টে।

৯। ইমেইল লিস্ট বিল্ডিং:

এই অংশে আমরা শিখব কিভাবে আপনি আপনার সম্ভ্যাব্য ক্রেতাদের ইমেল লিস্ট কালেক্ট করবেন এবং তাদের সাথে কিভাবে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে তাদেরকে বায়িং কাস্টমারে পরিনতি করাবেন।

১০। ট্রাকিং:

এই সেকশানে আমরা শিখব কিভাবে একজন ভিজিটরকে ট্রেক করা যায়। এছাড়া এই পার্টে আমরা দেখব কোন প্রডাক্টের কেমন সেল হচ্ছে আর কোনটা হচ্ছে না। সর্বপরি ভিজিটর থেকে শুরু করে ক্রতাদের ট্রাকিং এর সব গুলো স্ট্যেপ আমরা এই অংশে জানব।

১১। পে-আউট:

এই অংশে আমরা জানব কিভাবে আমাদের কমিশনের অর্থ উত্তলন করা যায়। এবং প্রতি মাসে কবে/কখন সেই অর্থ আসবে তার বিস্তারিত তথ্য জানব।

চলবে……