ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন ও সেটাপ (৫ম পর্ব)

প্রথমেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমার এই ৫ম পর্বটি শেষ করতে আমি অনেক বেশি সময় নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী পর্বগুলো খুব তারাতারি-ই প্রকাশ করার চেষ্টা করব।

যারা আমার পূর্বের পর্বগুলো দেখেন নাই তারা এখান থেকে দেখে নিতে পারেন-

– নিস আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট)
নিস কিওয়ার্ড রিসার্চ (২য় পর্ব)
কিওয়ার্ড কম্পিটিশান অ্যানালাইসিস (৩য় পর্ব)
ডোমেইন খুঁজা ও রেজিস্ট্রেশান (৪র্থ পর্ব)

আমাদের এই ৫ম পর্বে আমরা ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন ও সেটআপ করা নিয়ে আলোচনা করেছি। তো শুরু করা যাক!

ওয়েব হোস্টিং মানে হল ভার্চুয়াল স্পেস (জায়গা) যেখানে আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের লেখা, ছবি, ভিডিও থাকে। অর্থ্যাৎ ওয়েব হোস্টিং হল এমন জায়গা যেখানে আপনি আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের কনটেন্ট রাখবেন। এখানে কনটেন্ট মানে শুধু লেখাই না, সাইটের সকল ছবি, ডকুমেন্ট, ভিডিও, স্কৃপ্ট, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিকেও বুঝানো হয়েছ।

একটা কথা আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই, ডোমেইন এবং ওয়েব হোস্টিং দুইটা দুই জিনিস, কখনই দুটাকে এক ভাববেন না। ডোমেইন শুধু মাত্র নাম, আর হোস্টিং হল ডোমেইনের আওতায় সকল কনটেন্ট রাখার জায়গা।

আমার আগের পোস্টে আমি দেখিয়েছি কিভাবে ডোমেইন নির্বাচন করতে হয়, কোথা থেকে ডোমেইন কিনতে হয়, ডোমেইন নির্বাচনে বিভিন্ন বিষয় ইত্যাদি। আশা করি সবাই ডোমেইনের প্রতিটা বিষয় বুঝেছেন। এবার আমরা আমাদের ডোমেইনের জন্য একটা ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করব।

হোস্টিং সম্পর্কিত সাধারন কিছু কথা

প্রতিটা হোস্টিং এ দুটো বিষয় থাকে: (এক) ওয়েব স্পেস (দুই) বেন্ডউইথ।

১। ওয়েব স্পেস: যেখানে আপনার ওয়েব সাইটের সকল কনটেন্ট, ইমেজ, ডক ফাইল, অডিও, ভিডিও ফাইল রাখা হয় সেই স্থানটাকে ওয়েব স্পেস বা ডিস্ক স্পেস বলে। আমাদের নিস ব্লগের জন্য প্রথম দিকে খুব একটা স্পেস লাগবে না। ১ থেকে ৩ জিবি (গিগা বাইট) স্পেস নিলেই হবে।

২। ব্যান্ডউইথ (Bandwidth): বেন্ডউইথ হল সাইটের ব্যবহারকারিরা (ভিজিটর বা ট্রাফিক) ওয়েবসাইট থেকে মাসে কি পরিমান ডাটা ডাউনলোড বা আপলোড করতে পারবে তার পরিমান। বেন্ডউইথ মাসিক ভিক্তিতে দেওয়া হয়। আমাদের নিস ব্লগের জন্য মাসে ১০-২০ গিবি বেন্ডউইথ নিলেই আপাতত চলবে।

হোস্টিং আবার বিভিন্ন কোয়ালিটির বা ধরনের হয়। যেমন শেয়ার্ড হোস্টিং, ভিপিএস হোস্টিং, ডেডিকেটেড, মেনেজড, আনমেনেজড ইত্যাদি বহু প্রকারের আছে। হোস্টিং নিয়ে জানার অনেক কিছু আছে, (আমি নিজেও হোস্টিং সম্পর্কে খুব একটা ভাল জানি না)। যেহেতু এটা আমাদের নিস ব্লগ প্রজেক্ট সুতরাং আমাদের হোস্টিং সম্পর্কে এত কিছু না জানলেও চলবে।

আমাদের নিস সাইটের জন্য মিনিমাম যে রিকোয়ার্রমেন্টের হোস্টিং লাগবে:

  • শেয়ার্ড হোস্টিং (ভিপিএস হলে ভাল)
  • ওয়েব স্পেস: ১ জিবি
  • বেন্ডউইথ: ১০ জিবি (মান্থলি)
  • cPanel (হোস্টিং মেনেজমেন্ট করার জন্য)
  • ইমেইল একাউন্ট

মোটামুটি এই হল রিকোয়েরমেন্ট, আর এই রিকোয়ারমেন্টের হোস্টিং এর দাম বছরে ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পড়বে।

আপনার যদি বাজেট ভাল থাকে তাহলে 90$-100$ ডলার (৮০০০ টাকা) খরচ করে বিদেশি কোম্পানির শেয়ার্ড হোস্টিং কিতনে পারেন। আর এই সব শেয়ার্ড হোস্টিং আপনি একাধিক নিস সাইট হোস্ট/চালাতে পারবেন।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে প্রথম দিকে দেশিয় কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার করেছিলাম। ভাল সাপোর্ট না পাওয়ায় পরে বিদেশি কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার শুরু করি। বলে রাখা ভাল, ভাল কোম্পানির হোস্টিং না নিলে সারা বছর অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। এমনকি ভাল কোম্পানির হোস্টিং না নিলে সে সাইট দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনেও ভাল স্থান দখল করা সম্ভব নয়।

হোস্টিং নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়

১। কম দামের হোস্টিং এড়িয়ে চলুন: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- “যত গুড় তত মিষ্টি” সুতরাং কম দামের হোস্টিং এ সাপোর্ট কম পাবেন, বেশি দামেরটায় বেশি সাপোর্ট পাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিছুটাকা বাঁচানোর জন্য এমন মানের হোস্টিং নেওয়া উচিত হবে না যেটা আপনাকে সারা বছর ভুগাবে। ফেসবুকের কল্যানে এখন অনেকেরই স্ট্যাটাস পাওয়া যায় ১০ জিবি হোস্টিং মাত্র ৫০০ টাকায়! দয়া করে এদের এড়িয়ে যাবেন।

২। স্পেস ও বেন্ডউইথ দেখে নিন: যার কাছ থেকে হোস্টিং নিচ্ছেন তার তাছ থেকে ভাল ভাবে আপনার সার্ভারের স্পেস ও ব্যান্ডউইথ বুঝে নিন। সি-পেনেলে ঢুকে চেক করে দেখুন আসলেই কি আপনাকে আপনার কথামতন স্পেস ও ব্যান্ডউইথ দিয়েছে কিনা।

৩। কাস্টমার সাপোর্ট: হোস্টিং কেনার আগে সাপোর্টে ফোন, মেইল বা লাইভে চ্যেট করে দেখুন তারা লাইভ সাপোর্ট কেমন দেয়। সাপোর্ট পেতে দেরি হলে বা কোন গড়িমসি করলে তাদের

কোথা থেকে হোস্টিং কিনবেন?

যদি আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড, পেপাল কিংবা অন্য কোন পেমেন্ট গেট-ওয়েতে একাউন্ট থাকে তাহলে আমি বলব আপনি ইন্টারনেশনাল কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনুন। নিচে কিছু জনপ্রিয় কোম্পানির নাম দেওয়া হল যারা কিনা অল্প দামে ভাল হোস্টিং প্রভাইট করে। এদের কাছ থেকে হোস্টিং কিনলে ১ টা টপ লেভেল ডোমেইন ১ বছরের জন্য ফ্রি পাবেন। দাম ৯০ থেকে ১২০ ডলারের ভিতর পড়বে।

ইন্টারনেশনাল কোম্পানি:

  • bluehost.com
  • hostgator.com (২৫% ডিস্কাউন্ট পেতে এই কুপন কোডটি ব্যবহার করুনঃ “RealLifeProject”)
  • webhostinghub.com
  • namecheap.com (এখান থেকে একসাথে ডোমেইন ও হোস্টিং নিতে পারবেন)

যারা এখনো মাস্টার কার্ড নেন নি বা পান নাই, তারা দেশিয় অনেক কোম্পানি আছে যাদের কাছে বাংলা টাকার বিনিময়ে ডোমিন কিনতে পারবেন। এদের কাছ থেকে ডোমিন কিনতে আপনার খরচ হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

দেশীয় কোম্পানি:

  • ExonHost.com (২০% ডিস্কাউন্ট পেতে এই কুপন ব্যবহার করতে পারেন: ExonLove)
  • hostmight.com

ডোমেইন হোস্টিং সেটআপ

ডোমেইন সেটআপ

ডোমেইন কেনার পর ডোমেইন কোম্পানি আপনাকে একটা প্যানেল দিবে (যাকে আমরা ডোমেইন সি-প্যানেল বা ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল বলতে পারি)। ডোমেইন প্যনেল কোম্পানি ভেদে ভিতরের ফাংশন ভিন্ন হয়। তবে মূল বিষয় গুলো কিন্তু সব প্যানেলেই থাকে।

আমরা আজ যে প্যানেল থেকে ডোমেইন সেটআপ দেখাব তার নাম হল internetbs.net। এই প্যানেল দেখতে ঠিক নিচের ছবির মতন। যেখানে আপনার কেনা ডোমেইন নামটি থাকবে।

01

এখানে থেকে আপনি আপনার ডোমেইন সিলেক্ট করুন। ডোমেইন সিলেক্ট করলে আপনি নিচের ছবির মতন একটি পেজ পাবেন।

02

এখানে আপনাকে হোস্টিং কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএস (DNS = Domain name server) নাম্বার বসাতে হবে। অনেকে DNS কে আরো সংক্ষেপে NS (Name Server) নামেও ডাকে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে DNS নাম্বারটা কোথায় পাব??

আপনি যখন হোস্টিং কিনবেন, তখন হোস্টিং কোম্পানিকে আপনার ডোমেইনের নামটা দিয়ে দিতে হবে। হোস্টিং কোম্পানি আপনার কাঙ্ক্ষিত স্পেস ও ব্যান্ডউইথ সহ আপনার জন্য হোস্টিং সেটআপ করে দিবে। এবং সেই হোস্টিং এর সি-প্যানেলের ইনফরমেশান আপনাকে পাঠাবে। ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে যে সব ইনফরমেশান দিবে তার একটা নমুনা চিত্র নিচে দেওয়া হল-

03

চিত্রে আমি হাইলাইট করে দেখিয়েছি NameServer1: ns1.hostglad.com ও NameServer2: ns2.hostglad.com এই NS দুইটা নাম্বার আপনাকে আপনার ডোমেইন প্যানেলে বসাতে হবে। ঠিক নিচের চিত্রের মতন-

04

NS নাম্বার বসিয়ে সেভ করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনি আপনার ডোমেইন ব্রাউজ করলে index of/ cgi-bin/ লেখাটা না আসতাছে। এই লেখাতই পেলেই বুঝবেন যে আপনার ডোমাইনে আর হোস্টিং সেটআপ সম্পন্ন হয়েছে। index of/ পেজটা দেখতে নিচের চিত্রের মতন হবে-

05

index of/ cgi-bin/

বলে রাখা ভাল – কোন কোন ক্ষেত্রে এই সেটআপ সম্পন্ন হতে ১২ ঘণ্টার মতন সময় লাগতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ

ডোমেইন এবং হোস্টিং সেটআপ হয়ে গেলে আমরা এই অংশে ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিব। প্রথমেই বলা যাক ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমান সময়ের বহুল ব্যবহৃত এবং সর্বাধিক জন্যপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্লগিং সফটওয়্যার। এটি মূলত পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরী এবং নিয়ন্ত্রিত একটি সফটওয়্যার। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্লগটি খুব সহজেই ম্যানেজ না নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তো শুরু করা যাক,

প্রথমেই আমাদের হোস্টিং এর সিপ্যানেলে লগইন করতে হবে। সি-প্যানেলে লগইন করার জন্য আমরা আমাদের ডোমেইনের নাম এর শেষে “/” (শ্লেষ) চিহ্ন দিয়ে cpanel লিখব। ঠিক এই রকম http://masudurrashid.com/cpanel, এইটা লিখে ব্রাউজ করলে আপনাকে হোস্টিং এর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিতে বলবে। হোস্টিং কোম্পানি আমাদের যে ডাটা দিয়েছিল সেখানে সি-প্যানেলের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে। নিচের চিত্রে আমি সেটা হাইলাইট করে দেখিয়েছি-

06

এবার সি-প্যানেলে আপনি আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসান। ঠিক চিত্রের মতন।

07

ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসানোর পর লগইন বাটনে ক্লিক করলেই আমরা আমাদের হোস্টিং প্যানেলে প্রবেশ করব। হোস্টং প্যানেলটি দেখতে ঠিক নিচের চিত্রের মতন।

08

এর পরের অংশটি আমি ভিডিও-র মাধ্যমে দেখিয়েছি। আমি দুঃখিত যে ভিডিও-টিতে সাউন্ড কম এসেছে, তাই ভিডিও-টি দেখার সময় হেড ফোন ব্যবহার করুন। ধন্যবাদ।

নিস কিওয়ার্ড রিসার্চ (২য় পর্ব)

প্রথম পর্বটি যারা এখনো পড়েন নাই তারা এখানে ক্লিক করে প্রথম পর্বটি পড়ে নিন…

নিস হল কোন নির্দিষ্ট বিষয়, যেখানে শুধু মাত্র ঐ নিদৃষ্ট বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়। স্পেসিফিক নিস ভিক্তিক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটু পুরাতন ও জনপ্রিয় সিস্টেম। যেখানে একটি নিদৃষ্ট ক্যাটাগরির নিস নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়। যেমন “survival knife‘ একটি নিস; যেখানে শুধু মাত্র survival knife নিয়েই লিখা লিখি হয়। এবং ঐ ব্লগ থেকে বিভিন্ন মডেলের survival knife এর অ্যাফিলিয়েট করা হয়।

অনেকের কাছ থেকে আমার কাছে একটা কমন প্রশ্ন আসে- “ভাইয়া আমি কোন বিষয়ের উপর নিস সাইট বানাবো”? এই প্রশ্নটা যদি আপনার মনেও থেকে থাকে, তাহলে এই সেশনটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

নিস খুঁজার নিয়ম:

নিস খুঁজা খুব কঠিন কাজ নয়, সুতরাং ভয় পাবেন না। নিস খুজতে সুধু একটু অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, অভিজ্ঞ মার্কেটার খুব সহজেই নিস খুঁজে পায়। আমি ধরে নিব আপনি একজন অনভিজ্ঞ ব্যাক্তি, সুতরাং আপনাকে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে নিস নিস খুঁজে বের করতে হবে। আমি আপনাদের কিছু সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব।

১। http://alltop.com: এই সাইটি মূলত বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইটের RSS ফিড নিয়ে তৈরী করা। এই সাইটি যখন ওপেন করবেন সেখানে দেখতে পারবেন A থেকে Z পর্যন্ত নেভিগেশান বার। ঐ বারের যে কোন একটা লেটারে ক্লিক করলেই ড্রপ ডাউন ম্যেনুতে ঐ লেটারের আওতায় বিভিন্ন টপিক্স দেখতে পারবেন। ঐ টপিক্স গুলো থেকে সহজেই পছন্দের নিস বাছাই করা যায়।

alltop.com

যেমন ধরুন- আপনি D লেটারে ক্লিক করেছেন, দেখুন D লেটার ট্যেবে অনেক গুলো সাব নিস চলে এসেছে। সেখানে দেখুন আপনি কোন শব্দটির সাথে পরিচিত, আর কোন শব্দটিকে আপনার মনে হয় যে এইটার উপর কোন না কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস বাজারে বিদ্যমান আছে যাকিনা আপনি প্রমোট করতে পারবেন। উদাহরন আমি “Data Mining” শব্দটার দিকে তাকাই। “Data Mining” শব্দটা মূলত কোন তথ্য খুজার জন্য ব্যবহৃত হয়। এখন কথা হল এই “Data Mining” দিয়ে কি কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস বাজারে আছে? থাকলে কি ধরনের আছে তা জানতে আমরা সরাসরি Amazon.com এ চলে যাব। Amazon.com এর সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে দেখুন কোন প্রডাক্ট আছে নাকি? এখানে দেখা যাচ্ছে এই কিওয়ার্ডে বেস কিছু বই আছে। যেহেতু বেস কিছু ভাল প্রডাক্ট আছে সুতরাং আপনি চাইলে “Data Mining” এই কিওয়ার্ডকে আপনার কাংঙ্খিত নিসের তালিকায় রাখতে পারেন।

২। http://www.asseenontv.com: নিস খুঁজার জন্য অসাধারন একটি সাইট হল Asseenontv.com; এই সাইটের নিচের দিকে দেখবেন “Find Products By Name” নামে একটা সেকশন আছে। এখানে গিয়ে লেটার অনুযায়ি ক্লিক করলেই পেয়ে যাবেন অসাধারন কিছু নিস। মজার ব্যাপার হল এখানের প্রয় প্রতিটা শব্দ দিয়েই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়। এছাড়া এই সাইটের New Arrivals, Best Sellers সেকশন থেকেও নিস আইডিয়া পাওয়া সম্ভব। এই সাইটে আপনি লেটার অনুযায়ি তথ্য পাওয়ার পাশা-পাশি ক্যাটাগরি অনুযায়িও অনেক তথ্য পাবেন।

asseenontv.com

৩। http://www.about.com/#!/editors-picks/: নিস আইডিয়া জেনারেট করার জন্য About.com এর এই পেজটি দেখতে পারেন। এই পেজের নিচের দিকে দেখবেন “Featured Topics” অপশন আছে। ঐ অপশন থেকেও আপনি আপনার কাংখিত বা পছন্দের নিস বাছাই করতে পারেন। আগের নিয়ম অনুযায়ি, কোন একটি নিস প্রাইমারি বাছাই করে সেটা Amazon.com এ গিয়ে সার্চ করে দেখবেন যে, ঐ ক্যাটাগরির ভাল প্রডাক্ট আছে নাকি। ভাল ভাল প্রডাক্ট পাওয়া গেলেই কেবল সে নিসকে আপনার তালিকায় লিপিবদ্ধ করে রাখবেন। অন্যথায় নতুন করে আবার নিস খুজবেন।

৪। https://answers.yahoo.com/dir/index: নিস ফাইন্ড করার অসাধরন একটি সাইট হল Yahoo Answer এই সাইটের ক্যাটাগরি এবং মানুষের প্রশ্ন থেকে আপনি অসাধারন অসাধারন নিস খুজে বের করতে পারবেন। মনে রাখবেন-

যেখানেই সমস্যা, সেখানেই ব্যবসায়!

এই সাইট থেকেই জানা যায় মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা। আর সাথে সমাধানের লেখাও পাওয়া যায় এইখানে। সুতরাং এই সাইট হতে পারে একটি আদর্শ সাইট যেখান থেকে আপনি/আমি খুব সহজেই নিস খুজে বের করতে পারি।

৫। http://www.amazon.com/gp/site-directory/ref=nav_sad: Amazon এর প্রডাক্ট অ্যাফিলিয়েট করবেন আর Amazon.com থেকে কোন সাজেশান নিবেন না, তা কি করে হয়? আমাজনের এই ডিরেক্টরি থেকে অনেক নতুন নতুন নিসের আইডিয়া পাবেন। আবার প্রতিটা ক্যাটাগরির ভিতর রয়েছে অনেক সাব-ক্যাটাগরি। অ্যাফিলিয়েট করার জন্য আদর্শ নিস আসলে ঐ সাব ক্যাটাগরির ভিতর রয়েছে।

নিস খুঁজার কিছু টিপস:

একটি আদর্শ নিস খুঁজের সময় কিছু জিনিস আপনাকে মাথায় রাখতে হবে-

  • আপনি যে নিসটি সিলেক্ট করেছেন তার ব্যাকগ্রাউন্ডে যাতে কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস থাকে তা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। (কিভাবে নিশ্চিত হবেন তা এই পোস্টের alltop.com সেকশনটাতে বলা হয়েছে)
  • নিস খুঁজার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে সেটা কোন ব্রান্ডের সাথে সংঘর্ষ পূর্ণ না হয় যেমন। কেননা যদি আপনি কোন ব্যান্ডকে বা ব্যান্ডের কোন সরাসরি প্রডাক্টকে টার্গেট করেন তাতে মামলা খাওয়ার সম্ভবনা থাকবে, পাশা-পাশি আপনি কখনই ঐ ব্রান্ডের সাইটকে টপকাতে পারবেন না। উদাহরন সরুপ- “Google TV” আপনি যদি সরাসরি “Google TV” নিয়ে অ্যাফিলিয়েট করতে যান তাহলে আপনি কখনই Google TV অফিসিয়াল ওয়েব সাইট টপকে সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম দিকে আসতে পারবেন না। আবার এটা সম্পর্কে যদি কোন মিথ্যে তথ্য দেন তাহলে Google TV র কতৃপক্ষ আপনার নামে মামলাও করে দিতে পারে। সুতরাং সাবধান..
  • নিস খুঁজার জন্য সবসময় চেষ্টা করবেন মেইন ক্যাটাগরিতে না খুজে ঐ মেইন ক্যাটাগরিরি সাবক্যাটাগরিতে খুজতে। তাহলে খুব দ্রুতই আপনি আপনার কাংক্ষিত নিস খুজে পাবেন।
  • যে বিষয় আপনার মুটামুটি ধারনা আছে, বা যে বিষয় আপনি পছন্দ করেন সেই সব বিষয়ের নিস নিয়ে কাজ করলে বেশি ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।
  • লোভে পরে এমন নিস সিলেক্ট করা ঠিক না যেটাকিনা আপনার জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে পরে। যেমন ঔষধ, ট্রিটমেন্ট, লিগ্যাল ইস্যু, মিলিটারি ইত্যাদি।

কিওয়ার্ড কি এবং কিওয়ার্ডের প্রকারভেদ:

কিওয়ার্ড হচ্ছে এমন এক ধরনের শব্দ যার মাধ্যমে আমরা গুগল, বিং বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে অনুসন্ধান করে থাকি। ধরুন আপনি গুগলে অনুসন্ধান করছেন “Survival Knife” নিয়ে, তাহলে “Survival Knife” হচ্ছে একটি কিওয়ার্ড। আর এই সব কিওয়ার্ড গুলো নিয়ে রিসার্চ বা অনুসন্ধান করে আদর্শ কিওয়ার্ড বাছাই করাই হল কিওয়ার্ড রিসার্চ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর নিস সাইট তৈরী করতে গেলে প্রথমেই আপনাকে একটি প্রফিটেবল (লাভ জনক) নিস বা সেক্টর খুজে বের করতে হবে। এমন একটি সেক্টরের নিস আপনাকে খুজে বের করতে হবে যেখানে ভাল ভাল প্রডাক্ট রয়েছে এবং সে প্রডাক্টের বাজার চাহিদাও ভাল আছে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ শুরু করার আগে আমরা কিওয়ার্ডের কিছু পার্থক্য জানব, কিওয়ার্ডের পার্থ্যকরন করতে না পারলে আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ ব্যার্থ হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকবে।

খড়ের স্থুপ থেকে একটা সূচ খুঁজা যেমন কঠিন কাজ, ঠিক তেমন কঠিন কাজ একটা ভাল কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা

বিভিন্ন এক্সপার্টটা কিওয়ার্ডকে বিভিন্ন ভাবে সংঙ্গায়িত ও প্রকারভেদ করেছেন। তাদের ভিতর মতভেদ থাকলেও আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কিওয়ার্ডকে মূলত ৩ ভাগে ভাগ করব।

(১) ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ড
(২) অ্যাকশান বা বায়িং কিওয়ার্ড
(৩) লং টেইল কিওয়ার্ড

(১) ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ডঃ

যে সব কিওয়ার্ড দিয়ে মানুষ কোন কিছু সম্পর্েক জানতে চায় মূলত সেই সব কিওয়ার্ডকে ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ড বলে।

যেমন- weather forecast

এখানে মূলত ভিজিটর (ট্রাফিক) ঢাকার আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে। সে কিন্তু কোন কিছু কেনার উদ্দেশ্যে সার্চ দেয় নাই। সুতরাং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি এইসব ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ড এড়িয়ে চলবেন। ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ডে যদি ব্লগিং করেন তাহলে এর মনিটাইজেশান মেথড হবে গুগল অ্যাডসেন্স। ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ড ভাল ভাবে বুঝার জন্য আমি কিছু উদাহর দিচ্ছি, যেটা দেখলে ও ভাল ভাবে চিন্তা করলে আপনাদের এই ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ড সম্পর্কে ধারনা ক্লিয়ার হয়ে যাবে আশা রাখি।

How To Loose Weight

How To Loose Weight Healthy

Loose Weight on Food Diet

Weight Loss Videos for Womens

Best Weight Loss Programs

যেহেতু আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করব, তাই ইনফরমেটিভ কিওয়ার্ডের প্রতি খুব বেশি শিখব না। আমরা মূলত বায়িং কিওয়ার্ড নিয়েই বেশি কাজ করব।

(২) অ্যাকশান/ বায়িং কিওয়ার্ডঃ

যে সব কিওয়ার্ড দিয়ে সাধারনত কোন কিছু ক্রয় করা, সার্ভিস নেওয়া, কেনার আগ মূহুর্তের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া, নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ জানা ইত্যাদি বিষয়কে টার্গেট করে সেই সব কিওয়ার্ডকে আমারা অ্যাকশান বা বায়িং কিওয়ার্ড বলব। অর্থ্যাত অ্যাকশান কিওয়ার্ড হল সেই সব কিওয়ার্ড যার সর্বশেষ উদ্দেশ্য কোন একটি প্রডাক্ট কেনা বা সার্ভিস গ্রহন করা। একটি বায়িং কিওয়ার্ডের উদাহরন দেওয়া হল-

iPhone 5 Fast Shipping

এখানে “iPhone 5 Fast Shipping” কিওয়ার্ডটির দিকে নজর দিলে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, এই কিওয়ার্ডটি দিয়ে যিনি সার্চ করছেন তার কাছে অবশ্যই ক্রেডিট কার্ড আছে, এবং সে মানষিক ভাবে প্রস্তুত iPhone 5 ফোন সেটটি কিনতে। সে শুধু নিশ্চিত করতে চায় যে, সে যাতে দ্রুত ফোনটি তার কাছে পৌছাক। মানে যারা ফাস্ট শিপিং এর মাধ্যমে iPhone 5 ফোনটি বিক্রি করতাছে তাদেরকে সে খুজছে। সুতরাং এই কিওয়ার্ড নিয়ে কেউ যদি ব্লগিং করে এবং সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজের প্রথদিকে থাকতে পারে তাহলে তার সাইট থেকে এই প্রোডাক্ট সেল হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে।

অ্যাকশান বা বায়িং কিওয়ার্ডে তুলনামূলক সার্চ ভলিয়ম কম হয়ে থাকে, কিক্ত এতেই লুকিয়ে থাকে আসল খনি!

প্রতিটা নিসেরই বায়িং বা অ্যাকশান কিওয়ার্ড রয়েছে। বায়িং কিওয়ার্ড বের করার নিদৃষ্ট কোন নিয়ম নেই, কিওয়ার্ড ভেদে এই বায়িং বা অ্যাকশান কিওয়ার্ড ভিন্ন হতে পারে। তবে একটু সাধারন ভাবে চিন্তা করলে বা নিজেকে প্রশ্ন করলেই এর উত্তর বের হয়ে আসে। যেমন ধরুন আপনি iPhone 5 কিনতে চান, কিন্তু আপনার পকেটে এই ফোন কেনার পর্যাপ্ত টাকা নেই। তাহলে আপনি হয়ত এই ফোনটি কেনার জন্য ডিস্কাউন্ট খুজবেন অন্যথায় সেকেন্ড হ্যান্ড সেট খুজবেন। তাহলে আপনার জন্য এই iPhone 5 এর বায়িং বা অ্যাকশান কিওয়ার্ড হতে পারে-

iPhone 5 Discount

iPhone 5 Coupons

2nd Hand iPhone 5

Cheap iPhone 5

বায়িং কিওয়ার্ডের কিছু চিট শিট আছে। এগুলো ফলো করলে বায়িং বা অ্যাকশান কিওয়ার্ড খুজতে সুবিধা হবে। তবে কথাটি অবশ্যই মনে রাখবেন- বায়িং কিওয়ার্ড বের করার কোন সূত্র নাই, সাধারন সেন্স থেকে কিওয়ার্ড বের করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

buying keywords list

(৩) লং টেইল (Long Tail) কিওয়ার্ড:

“লং টেইল” নাম শুনলেই কিছুটা আন্দাজ করা যায়, যার মানে হচ্ছে লম্বা লেজ 😉 আসলে এখানে লম্বা লেজ বুঝানো হয় নাই। লং টেইল কিওয়ার্ড হল সেই সব কিওয়ার্ড যাতে ৩ বা তার তার বেশি শব্দ গুচ্ছ থাকে। যেমন “Survival Kit” একটি নিস যেখানে দুটি শব্দ আছে, যার একটি শব্দ “Survival” অন্যটি “Kit”। এর লং টেইল কিওয়ার্ড হতে পারে “emergency survival kit”, “apocalypse survival kit” বা “earthquake survival kit list”। এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে কিওয়ার্ড গুলোর ওয়ার্ড ৩টি শব্দ বা তারো বেশি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

লং টেইল কিওয়ার্ড ব্যবহারের প্রধান কারন হল এর এসইও কম্পিটিশন তুলনা মুলক ভাবে কম থাকে। আর শর্ট কিওয়ার্ড গুলোর এসইও কম্পিটিশন তুলনা মুলক অনেক বেশি হয়ে থাকে। (এসইও কম্পিটিশন কি তা আমরা কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস অংশে বিস্তারিত জানব)

আমি সব সময় লংটেইল কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ শব্দ পর্যন্ত সাজেস্ট করি।

কিওয়ার্ড ফাইন্ডিং/খুঁজা:

কিওয়ার্ড খুঁজার জন্য আমারা কিছু অনলাইন টুল ব্যবহার করব। কিওয়ার্ড খুজার জন্য আমি কিছু টুলের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব, যেগুলো দিয়ে আপনি খুব সহজেই কিওয়ার্ড খুঁজে বের করতে পারবেন। এর ভিতর একটি টুল দিয়ে আমি দেখিয়ে দিব কিভাবে কিওয়ার্ড খুঁজতে হয়।

কিছু প্রিমিয়াম সফটওয়ার আছে যা দিয়েও আপনি চাইলে কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস করা যায়। যেমন:

  • * keywordrevealer.com (ফ্রি ভার্সন ও পেইড ভার্সন আছে)
  • * kwfinder.com (ফ্রি ভার্সন ও পেইড ভার্সন আছে)
  • opensiteexplorer.com (ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু অনেক লিমিটেশন আছে)
  • marketsamurais.com (ট্রায়েল ভার্সন আছে)

স্টার (*) মার্কের টুল গুলো হাইলি রিকোমেন্ড করছি।

কিওয়ার্ড রিসার্চ:

এই অংশে আমরা গুগল অ্যাডওয়ার্ড (https://adwords.google.com/KeywordPlanner) দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করব। প্রথমেই উপরের লিংক ওপেন করুন এবং নিজের জিমেইল একাউন্ট দিয়ে সাইন-ইন করুন। আপনি যদি একেবারে নতুন অ্যাডওয়ার্ডে ঢুকেন সেক্ষেত্রে আপনাকে কিছু সেটিংস সেট করে নিতে বলবে। যেমন আপনার দেশ ও আপনার কারেন্সি, দেশের সেকশানে আপনি বাংলাদেশ, আর কেরেন্সি সেকশনে আপনি ডলার দিয়ে নেক্সট/সেভ বাটনে চাপুন।

এবার অ্যাডওয়ার্ডের “Tools” থেকে “Keyword Planner” যান

Google keyword tools

“Search for new keyword and ad group ideas” ট্যাবে ক্লিক করুন, দেখবেন আর একটা নতুন ট্যাব ওপেন হয়েছে।

Google keyword planner

নতুন ট্যাবের প্রথম বক্সটি যেখানে “Enter one or more of the following: Your product or service” লেখা আছে সেখানে আপনি আপনার সিলেক্টেড নিস দিয়ে “Get ideas” বাটনে ক্লিক করুন।

03

“Get ideas” বাটনে ক্লিক করার পরে দেখবেন আপনার নিস রিলেটেড অনেক নতুন কিওয়ার্ড গুগল অ্যাডওয়ার্ড আপনাকে সাজেস্ট করছে। ধরুন আপনি “survival kits” লিখে “Get ideas” বাটনে ক্লিক করেছেন। দেখুন গুগল কিওয়ার্ড টুলস আপনাকে “survival kits” রিলেটেড অনেক নতুন কিওয়ার্ড সাজেস্ট করছে, সাথে ট্রন্ড ও দেখাচ্ছে।

এবার আপনি কিওয়ার্ড টুলসের মাঝের দিকে দেখুন “Keyword ideas” নামে একটা ট্যাব আছে। ঐ ট্যাবটাতে ক্লিক করুন। দেখুন ম্যেজিক! শত শত রিলেটেড কিওয়ার্ড আপনাকে সাজেস্ট করছে। ঐখান থেকেই আপনি পাবেন আপনার কাংক্ষিত কিওয়ার্ড।

Keyword research

গুগল কিওয়ার্ড টুলসের কাছ থেকে যে সব ডাটা আমাদের প্রয়োজন হবে:

  • নাম্বার অফ সার্চ ভলিউম (অর্থ্যাৎ, ঐ কিওয়ার্ডটি প্রতি মাসে কত বার সার্চ হয় তার সম্ভাব্য ডাটা)
  • বাম পাশের “Targeting” থেকে আপনি লোকেশন ভেদে, ভাষা ভেদে সার্চ ভলিউম।
  • রিলেটেড সার্চ ভলিউম, যা থেকে আপনি পেতে পারেন আপনার কাংঙ্খিত কিওয়ার্ড। যা দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

যেহেতু গুগল কিওয়ার্ড টুল আপনাকে অনেক অবাঞ্চিত কিওয়ার্ড দেখাবে সেখান থেকে ভাল কিওয়ার্ড বের করতে আপনি এর “Keyword filters” অপশনটাকে ব্যবহার করে কিওয়ার্ড গুলোকে ফিল্টার করতে পারবেন। “Keyword filters” টুলে ক্লিক করলেই একটা বক্স ওপেন হবে ঐ বক্সে আপনি নির্ধারন করে দিতে পারবেন মিনিমাম কত সার্চের রেজাল্ট আপনাকে দেখাবে, আর মেক্সিমাম কত দেখাবে।

এখানের “Average monthly searches” ঘরে মিনিমাম ১০০০ দিয়ে সার্চ দিলে আপনি ভাল কিছু কিওয়ার্ড পাবেন। নিচে দেখুন “Competition” এর ৩ টা চেক বক্স আছে। ঐ ৩ টা চেক বক্সের প্রথম ২টা চেক (High এবং Medium) করুন।

Niche Keyword research

অনেকেই Competition টাকে নিয়ে বিভ্রান্তে থাকে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, এই কম্পিটিশান আসলে ব্লগারদের, সাইট মালিকদের বা এসইও কম্পিটিশান না। এটা মূলত গুগলের Advertiser দের কম্পিটিশান। সুতরাং এই কম্পিটিশান নিয়ে আপনি চিন্তিত না হলেও চলবে। যাস্ট আপনি শুধু High এবং Medium দুইটাকে চেক করে রাখুন।

এবার দেখুন কিওয়ার্ড গুলো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং রিলেভেন্ট কিওয়ার্ড বের হয়ে এসেছে। এখান থেকে কিওয়ার্ড বাছাই করাটা অনেক সহজ হবে আমাদের জন্য। এখান থেকে কিওয়ার্ড বাছাই করে আপনি সেটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে আমরা একটা ফাইনাল কিওয়ার্ড বাছাই করব যেটা দিয়ে আমাদের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করব।

নেক্সট পর্বে আমরা শিখব কিভাবে কিওয়ার্ড অ্যানালাইসিস করা যায়। তবে সেই পর্বে আমি চেষ্টা করব একটা ভিডিও টিউটরিয়াল বানাতে। সেই টিউটরিয়ালে আমি চেষ্টা করব কিওয়ার্ড রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস পুরো বিষয়টা কাভার করতে।